জেলা প্রতিনিধি
১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
‘খেজুর রস খেজুর গুড়, দক্ষিণের দ্বার মাদারীপুর’। ভেজাল গুড়ের কারণে জেলার এই ব্রান্ডিং আজ বিলুপ্তের পথে। রং, চিনি আর বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে বানানো গুড়, খাঁটি খেজুর গুড় বলে বিক্রি হচ্ছে হাটবাজারে। যা খেলে হতে পারে কিডনি বিকলসহ ক্যানসারের মতো মরণব্যাধি। যদিও ব্যবস্থা নেওয়ার গতানুগতিক আশ্বাস জেলা প্রশাসনের।
সরেজমিনে কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দুপুর গড়িয়ে বিকেল। পুবের সূর্য তখন পশ্চিমের দিকে অস্ত যাচ্ছে। ঠিক সে সময়ে খেজুর গাছের পরিচর্যা শেষে গাছে গাছে রসের হাঁড়ি বসাতে ব্যস্ত গাছিরা। এই দৃশ্য মাদারীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার। পরদিন কাকডাকা ভোরে গাছ থেকে নামানো হয় রস। যা দিয়ে তৈরি হয় খাঁটি গুড়। কিন্তু চাহিদা বেশি হওয়ায় রং, চিনি আর বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি ভেজাল গুড়ে সয়লাব পুরো জেলা। আঁখের গুড় ভেঙে, তার সঙ্গে রং, চিনি আর বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশিয়ে কালিকাপুর, সরদারকান্দি জাফরাবাদ, তাল্লুক, ঘটমাঝি, ঝিকরহাটি, মোস্তফাপুরসহ জেলার অন্তত ২৫ থেকে ৩০টি এলাকায় তৈরি হয় গুড়। যা ছড়িয়ে পড়ছে শহর থেকে গ্রামগঞ্জের হাটবাজারে। দেখে বোঝার উপায়ও নেই কোনটা আসল আর কোনটা নকল। ভেজাল গুড় কিনে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব আর ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করায় প্রতিনিয়তই কমছে খেজুর গাছের সংখ্যা। জেলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে নতুন করে খেজুর গাছের চারা রোপণের দাবি জানিয়েছেন জেলাবাসী।
তথ্য বলছে, যেখানে এক কেজি খাঁটি গুড়ের দাম ১০০০-১২০০ টাকা। সেখানে জেলার বাইরেও নাটোর, রাজশাহী, রাজবাড়িসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ভেজাল গুড় বিক্রি হয় আড়াইশো থেকে তিনশো টাকায়। যা কিনতে ভিড় করেন ক্রেতারা।

মাদারীপুর পৌর এলাকার বাসিন্দা বাদল হোসেন বলেন, আগে এই খেজুর দিয়ে অনেক গন্ধ আসতো। স্বাদও ছিল বেশ। কিন্তু ভেজালের কারণে জেলার ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তের পথে। এ বিষয়ে প্রশাসনের তৎপরতা বাড়ানো প্রয়োজন।
ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, কোনটা ভেজাল, আর কোনটা আসল, তা চেনা কঠিন। আমরা চাই ভেজালমুক্ত খেজুর গুড় খেতে। টাকা একটু বেশি হলে তাও দিতে রাজি।

পুরাতন কোর্ট এলাকার গুড় বিক্রেতা আয়নাল শরীফ বলেন, গুড়ের মধ্যে একটি চিনি মিশ্রিত আছে। তবে, রং বা ক্যামিক্যাল নেই। আমরা সুনামের সঙ্গে ৩০ বছর এভাবে গুড় বিক্রি করে আসছি। এখানকার খেজুর গুড়ের বেশ সুনামও আছে।

মাদারীপুরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. সরদার মোহাম্মদ খলিলুর রহমান জানান, ভেজাল গুড় খেলে হতে পারে কিডনি বিকলসহ মরণব্যাধি ক্যানসারও। শিশুরা পড়তে পারে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। এটি তৈরি ও বিক্রি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার।

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হবে। যাতে কেউ ভেজাল গুড় বিক্রি করতে পারে না। এছাড়া ক্রেতারা সচেতন হলে এই গুড় তৈরি ও বিক্রি দুটোই এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে।
প্রতিনিধি/এসএস