images

সারাদেশ

খুলনা- ২: বিএনপির দুর্গ দখলে নিতে চায় জামায়াত

জেলা প্রতিনিধি

১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:০২ এএম

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র খুলনার-২ আসনটি বরাবরই আগ্রহের কেন্দ্র বিন্দুতে থাকে। অফিস আদালত বিশ্ববিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এই আসনের সীমানার মধ্যে পড়ায় প্রতিবারই জাতীয় নির্বাচনে টক অব দ্যা টাউন থাকে, কে হবেন এই আসনের অভিভাবক। আসনটিতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তবে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে।

খুলনা-২ আসন:

খুলনা-২ আসন সোনাডাঙ্গা ও খুলনা সদর নিয়ে গঠিত। জাতীয় সংসদের ১০০ নম্বর আসন খুলনা-২। খুলনা জেলা নির্বাচন অফিসের চলতি বছরের নভেম্বর মাসের তথ্য মতে, এ আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩১ হাজার ৯৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৪ হাজার ১২২, নারী ভোটার ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৩ ও হিজড়া ভোটার ১০ জন। আসনটিতে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৫৭ টি।

খুলনা-২ আসনে প্রার্থী যারা:

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জুর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী খুলনা মহানগরী আমির মুফতি আমানুল্লাহ এবং খেলাফত মজলিসের মুফতি মো. শহিদুল ইসলাম।

monju_0102

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বিগত ৩টি বিতর্কিত নির্বাচনসহ মোট ৪ বার এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে। বিগত দিনে এ আসনে বিএনপিরই প্রাধান্য ছিল বেশি। যে কারণে এ আসনকে বিএনপির দুর্গ বলা হয়। এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পরিচ্ছন্ন ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে প্রার্থী ঘোষণা করে চমক দেখিয়েছে। তাকে প্রার্থী করায় অনেকটা নির্ভার নেতাকর্মীরা। তবে জুলাই বিপ্লবের পর অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। অতীতে এই আসনটিতে জামায়াত কখনো না জিতলেও এবারের নির্বাচনে তারা চমক দেখাতে চায়। সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলার অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলালকে প্রার্থী করে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তারা।

প্রার্থীরা যা বলছেন:

মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জুর বলেন, দুঃসময়ের দিনগুলোতে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, ত্যাগ ও শ্রমের কারণে দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। আমি আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনটি উপহার দিতে চাই।

নির্বাচনি এলাকার উন্নয়ন বিষয়ে মঞ্জু বলেন, শিল্প নগরী খুলনার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ করব। কলকারখানাগুলো চালু করে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আমাদের অগ্রাধিকার থাকবে।

আরও পড়ুন

৪৭ আসন কোন কোন দলের জন্য ফাঁকা রাখল জামায়াত জোট?

জলাবদ্ধতা ও মাদক এই শহরের অন্যতম প্রধান সমস্যা। জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশন যে পরিকল্পনা নিয়েছে তা বাস্তবসম্মত নয়। আমরা বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা হাতে নেব। শান্তির নগরী খুলনা খুনের নগরীতে পরিণত হয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ডের মূলে রয়েছে মাদক। তরুণ সমাজকে বাঁচাতে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণ করব।

অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল বলেন, গ্যাস লাইন নিয়ে আমরা কাজ করব। কারণ শিল্পনগরী খুলনার পুরোনো পরিচয় ফিরিয়ে আনতে হলে সেগুলো চালু করতে হবে। এজন্য গ্যাস সংযোগ অত্যন্ত জরুরি। খুলনা মাদকের অভয়ারণ্য পরিণত হয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সাথে নিয়ে কাজ করব। এ ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান থাকবে জিরো টলারেন্স। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক মোটিভেশনের ব্যবস্থা করব। খুলনার আগামী প্রজন্মকে আমরা এমনভাবে গড়তে চাই যেন তারা খুলনার জন্য গর্বের হয়।

22540119-2088-455b-9feb-630a1043fdb7

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী খুলনা মহানগরী আমির মুফতি আমানুল্লাহ বলেন, আমি যদি নির্বাচিত হই আমাদের প্রধান পদক্ষেপ হবে খুলনা শহরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো। করোনাকালিন পাশাপাশি নানা সংকটে ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা নগরবাসীকে সেবা দিয়েছে। আমি নির্বাচিত হই বা না হই নগরবাসীর পাশে থাকব।

কী ভাবছেন ভোটাররা:

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। সুষ্ঠুভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে তারা প্রার্থী নির্বাচনে গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে আসবেন। বেছে নেবে সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব প্রার্থীকে।

daa374c0-668c-43a5-adbd-93032c1d97a2

খুলনা-২ আসনের বিগত নির্বাচনের ফলাফল:

স্বাধীনতার পর খুলনা-২ আসনে আওয়ামী লীগ ১৯৭৩, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে জয় পেয়েছে। এরমধ্যে ১৯৭৩ সাল বাদ দিলে বাকি তিনবারই বিতর্কিত নির্বাচন। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে শেখ রাজ্জাক আলী (মৃত) বিএনপির টিকিটে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচন করে বিজয়ী হন। এরপর তার ছেড়ে দেওয়া আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মহানগর বিএনপির তৎকালীন মহানগর আহ্বায়ক আলী আসগর লবী। আর ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু ৯০ হাজার ৯৫০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।

প্রতিনিধি/এসএস