images

সারাদেশ / কৃষি ও পরিবেশ

তেতো করলার আশানুরূপ ফলনে সাজিদের মুখে মিষ্টি হাসি

জেলা প্রতিনিধি

১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪২ এএম

প্রবাস জীবনের কঠিন বাস্তবতা ছেড়ে দেশে ফিরে কৃষিকেই বেছে নিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বগডহর গ্রামের যুবক সাজিদ। আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে করলা চাষ করে অল্প সময়েই সাজিদ হয়ে উঠেছেন একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা। তেতো করলার আশানুরূপ ফলনে সাজিদের মুখের মিষ্টি হাসিই এখন এলাকার তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা।

43176f40-7792-4e70-a642-2d71f1e0d46e

জানা যায়, কয়েক বছর সৌদি আরবের প্রবাস জীবন কাটিয়ে ৬ মাস আগে দেশে ফিরে আসেন সাজিদ। পরে নিজ গ্রামের আহমেদ সিটি গার্ডেনে অনাবাদি পতিত জমি পরিষ্কার পরিছন্ন করে স্থানীয় উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে করলা চাষ শুরু করেন। মাত্র ৪০ শতাংশ জমিতে মালচিং পদ্ধিতে জলবায়ু সহিষ্ণু মহারানী হাইব্রিড করলা আবাদ শুরু করেন। কৃষি বিভাগের ফ্ল্যাড রিকনস্ট্রাকশন ইমারজেন্সি এসিসট্যান্স প্রজেক্টের আওতায় একটা প্রদর্শনীর মাধ্যমে উপকরণ সহযোগিতা নেন। উপ-সহকারী কৃষি অফিসার আবু নোমানের সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মালচিং, ড্রিপ ইরিগেশন এবং সুষম সার ব্যবস্থাপনার মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেন। এর ফলে উৎপাদন খরচ কমে আসে এবং ফলন উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পায়। আবাদ করা জায়গায় থেকে এখন করলা উত্তোলন চলছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৬শ কেজির মতো করলা উত্তোলন করা হয়েছে। বাজারে করলা পাইকারি ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩৬ হাজার টাকার করলা বিক্রি হয়েছে। আবহাওয়া অনূকূলে থাকলে আরও দেড় মাসে আনুমানিক দেড় থেকে ২ টন করলা বিক্রি করা সম্ভব বলে জানান সাজিদ। যার বাজারমূল্য প্রায় দেড় থেকে ২ লাখ টাকা।

Capture

সাজিদ জানান, প্রবাসে কষ্ট করে যে টাকা আয় করেছি, তা দিয়ে দেশে কিছু একটা স্থায়ীভাবে করতে চেয়েছি। কৃষিই আমার কাছে সবচেয়ে নিরাপদ ও সম্মানজনক পেশা মনে হয়েছে। আশেপাশে ঝোপঝাড় পরিষ্কারের কাজ চলমান, চলতি মৌসুমে আরও ৩ বিঘা জমিতে টমেটো, শসা, অফ সিজন তরমুজ আবাদের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নবীনগর উপ-সহকারী কৃষি অফিসার আবু নোমান জানান, বর্তমানে তার খামার থেকে নিয়মিতভাবে স্থানীয় বাজারে সবজি সরবরাহ হচ্ছে। এতে যেমন তার আর্থিক স্বচ্ছলতা এসেছে, তেমনি কয়েকজন বেকার যুবকের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে।

 

নবীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, সাজিদের মতো প্রবাস ফেরত যুবকরা যদি পরিকল্পিতভাবে কৃষিতে বিনিয়োগ করেন, তাহলে দেশের খাদ্য উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব। সাজিদের সাফল্য প্রমাণ করে যথাযথ উদ্যোগ, পরিশ্রম ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে কৃষিই হতে পারে লাভজনক ও টেকসই পেশা। কৃষি বিভাগ উদ্যমী তরুণদের প্রদর্শনী, প্রশিক্ষণ এবং সরেজমিনে পরামর্শ দিতে কাজ করছে। প্রবাস ফেরত সাজিদের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং দেশের তরুণ সমাজকে কৃষিমুখী হওয়ার একটি বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

প্রতিনিধি/টিবি