images

সারাদেশ

মাদারীপুরে সংঘর্ষ, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট

জেলা প্রতিনিধি

১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১২ পিএম

মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অন্তত ১০টি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে।

বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের খাতিয়াল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত খাতিয়াল এলাকার আব্বাস চৌধুরী (৪৭) নামে এক ব্যক্তিকের আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও এ ঘটনায় আহত হয়েছে উভয়পক্ষের অন্তত ৫ জন।

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আবুল জমাদ্দারের সঙ্গে একই এলাকার আব্বাস চৌধুরীর বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে মঙ্গলবার উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়াসহ হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বুধবার সকালে আব্বাস চৌধুরীকে একা পেয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে প্রতিপক্ষের লোকজন। পরে তাকে গুরুতর অবস্থায় মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে, সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এলাকায় এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার দুপুর থেকে উভয়পক্ষের মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা যায়। একপর্যায়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আব্বাসের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে আবুল জমাদ্দারের বাড়ি ও বংশিও লোকজনের বসতঘরে হামলা ও লুটপাট চালায়। এতে আবুল জমাদ্দার, আনোয়ার জমাদ্দার, বেল্লাল জমাদ্দার, সিরাজ জমাদ্দারের ১০টি বসতঘরে লুটপাট ও ভাঙচুর শেষে ঘরগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। বাধা দিতে গেলে উভয়পক্ষের অন্তত ৫ জনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণসহ সংঘাত নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগে আগুনে পুড়ে গেছে ১০টি বসতঘর।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত সিরাজ জমাদ্দার বলেন, আগুনে আমার ঘরবাড়ি সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুধু আমি এক নই, জমাদ্দার বংশের অন্তত ১০টি ঘর সব পুড়ে শেষ। আমরা কোনো কিছু বোঝার আগেই আব্বাসের লোকজন হঠাৎ এই হামলা চালিয়েছে। আমরা এ হামলার বিচার চাই।'

এদিকে, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যান মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম ও ডাসার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল মামুনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'আবুল আর আব্বাস গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

প্রতিনিধি/ এজে