জেলা প্রতিনিধি
১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৫ এএম
নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পাবনার আলোচিত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান ‘অনন্য সমাজ কল্যাণ সংস্থা’য় প্রশাসক নিয়োগ, নিবন্ধনের কপি, অনুমোদিত গঠনতন্ত্র এবং পরিচালনা পর্ষদের তালিকা চেয়ে করা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরআই) আদেশও মানছেন না পাবনা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। রহস্যজনকভাবে গত বছরের ২৮ আগস্ট এমন নির্দেশনা জারি করলেও এখনও তা বাস্তবায়ন করেনি তারা।
আদেশ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর চিঠির মাধ্যমে তা অবহিত করেছে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরআই)। প্রতিষ্ঠানটি দেশের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ এই সংস্থাটি কাজ করে।
প্রতিষ্ঠানটির আদেশ ও বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, অনন্য সমাজ কল্যাণ সংস্থা-এএসকেএস’র সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে ধারাবাহিকভাবে তা পরিদর্শন ও তদন্ত করে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি। এসব তদন্তে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি আইন লঙ্ঘন, স্বজনপ্রীতি, সংস্থা পরিচালনায় স্বচ্ছতা লঙ্ঘন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিধিবিধানের লঙ্ঘন, সংস্থার জমি ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রি, ভুয়া কার্যবিবরণী, ভুয়া ঋণ বিতরণ ও সংস্থার আর্থিক ক্ষতিসহ কোটি কোটি টাকার অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পায় মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি।
প্রায় অর্ধশত অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ উল্লেখ্য করে ‘অনন্য সমাজ কল্যাণ সংস্থা’য় প্রশাসক নিয়োগ, নিবন্ধনের কপি, অনুমোদিত গঠনতন্ত্র এবং পরিচালনা পর্ষদের তালিকা চেয়ে গত বছরের ২৮ আগস্ট সমাজসেবা অধিদপ্তরকে এবং ১৩ অক্টোবর পাবনা সমাজসেবা কার্যালয় বরাবর চিঠি পাঠায় মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি। এচিঠি দেওয়ার পরও অনন্য’য় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ গত ৫ জানুয়ারি আবারও সমাজসেবা অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়েছে মাইক্রোক্রেডিট।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক অনন্য সমাজ কল্যাণ সংস্থা’র সাবেক কিছু কর্মকর্তা জানান, পাবনা সমাজসেবা কার্যালয়ের ওপরেই অনন্য সমাজ কল্যাণ সংস্থার কার্যালয়। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের পাবনা জেলার আহবায়ক মাহফুজ আল কাদেরির সঙ্গে পাবনা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। এসব অনিয়মের সঙ্গে সেইসব কর্মকর্তাদের যোগসাজস রয়েছে। এজন্য অনন্য’র বিরুদ্ধে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ এমন প্রতিষ্ঠানের আদেশও মানতে গড়িমসি করছেন কর্মকর্তারা।
গত ২৯ ডিসেম্বর রাতে পাবনা শহরের নিজ বাড়ি থেকে মাহফুজ আলী কাদেরীকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হামলা মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তার স্ত্রী ও সংস্থাটির বর্তমান নির্বাহী পরিচালক বরনা খাতুন বলেন, এমআরআই এর আগেও অডিট করেছে। এবার আমরা জানতে পারছি- এমআরআইয়ের যে অভিযোগগুলো পেয়েছে তার ভিত্তিতে সমাজসেবাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তদন্ত করে যেটা পাবে সেই অনুযায়ী রিপোর্ট দিবে। কিন্তু প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি স্বাভাবিকভাবে চলছে। আর এইসব অভিযোগের বিষয়েও কোনো সত্যতা নেই। আমরা একটু অনুরোধ করবো, এই বিষয়ে কেউ কোনো নিউজ করা থেকে যেন বিরতি থাকে। শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে যেন নিউজ না হয়।
প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি অস্বীকার করে পাবনা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রাশেদুল কবির বলেন, আমরা ব্যবস্থা নেয়নি এটা ঠিক না। আমরা চিঠি অনুযায়ী দুই সপ্তাহ আগেই ব্যবস্থা নিয়েছি। কিন্তু প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি ওখানে (চিঠি) ওইভাবে লেখা নেই, আপাতত আমরা তদন্তের বিষয়টি দেখছি। তদন্ত করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি প্রয়োজন হলে নিয়োগ দেওয়া হবে। কিন্তু গড়িমসির বিষয়টি সঠিক নয়।
প্রতিনিধি/টিবি