images

সারাদেশ

সন্ত্রাসী পাহারায় চলছে আ.লীগ নেতার অবৈধ ইটভাটা

জেলা প্রতিনিধি

১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৬ এএম

বান্দরবানের গজালিয়া ইউনিয়নের দুর্গম অরণ্যেঘেরা পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের পাহারায় চলছে আজিজ নগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ উল্লাহ আজম খানের মালিকানাধীন একটি অবৈধ ইটভাটা। স্থানীয়ভাবে এটি এসবিএম ব্রিকফিল্ড নামে পরিচিত।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বিশাল এলাকার পাহাড় কেটে এবং বনাঞ্চলের কাঠ পুড়িয়ে এই ইটভাটা পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অবৈধ কার্যক্রমে সরাসরি নেতৃত্ব দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতা আজম উল্লাহ খান ও তার দুই ছেলে ফরহাদ ও আলভি। তাদের সহযোগী কবির নামে একব্যক্তি ইটভাটার ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। এলাকাটি একটু দুর্গম হওয়ার কারণে প্রশাসনের নজরে সহজে পড়ে না। প্রায় শতাধিক শ্রমিক নামধারী সন্ত্রাসীদের তত্ত্বাবধানে চলছে এই অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম। স্থানীয়দের ধারণা, সন্ত্রাসীরা নোয়াখালী, চাটখীলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি বা লোকজন।

IMG-20260113-WA0009

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত আজম উল্লাহ খান আজিজ নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। সে সময় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তিনি গজালিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এসবিএম নামে ইটভাটাটি গড়ে তোলেন। ভাটাটি পাহারা দিতে সেখানে সন্ত্রাসী মোতায়েন রয়েছে। ফলে এলাকাবাসী ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।

সাম্প্রতিক সময়ে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে ফরহাদ হোসেন ও আলভী তার দুছেলে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয়রা আরও জানান, তিন পার্বত্য জেলায় অবৈধ সব ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ থাকলেও প্রভাব ও টাকার বিনিময়ে এসবিএম ইটভাটার বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সাংবাদিক জানান, সম্প্রতি অবৈধ ইটভাটার তথ্য সংগ্রহ করতে এসবিএম ব্রিকফিল্ডের ছবি তোলার কারণে ভাটা মালিকের ছেলে ফরহাদ, ম্যানেজার কবির ও শ্রমিকরা তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা কেড়ে নেয়। এসময় দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে ভাটার চুল্লিতে ফেলে দিয়ে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। তারা দাবি করেন, তারা চট্টগ্রামের এক রাজনৈতিক নেতার ক্যাডার হিসেবে একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত। এখানে কয়েকজনকে চুল্লিতে পুড়িয়ে ফেললেও কিছুই হবে না বলে দম্ভোক্তি করেন তারা।

IMG-20260113-WA0008

এই বিষয়ে ইটভাটার মালিক মোহাম্মদ আজম উল্লাহ খানের কাছে জানতে চাইলে ইটভাটায় সন্ত্রাসী দিয়ে পাহারা দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। তবে   স্বীকার করেন যে, তার ইটভাটার কোনো বৈধ অনুমোদন নেই। তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার দায় তিনি শ্রমিকদের ওপর চাপিয়েছেন।

বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম ঢাকা মেইলকে বলেন, জেলায় কয়টি ইটভাটা চালু আছে এই মুহূর্তে সঠিক তথ্য তার কাছে নেই। তবে লামা উপজেলার আজিজ নগর, ফাইতং ইউনিয়নসহ ৩১টি ইটভাটা চালু রয়েছে। গজালিয়া ইউনিয়নের আজম উল্লাহ খানের এসবিএম ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। জনবল ও লজিস্টিক সংকটের কারনে নিয়মিত অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।

লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন ঢাকা মেইলকে  বলেন, লামা উপজেলায় বর্তমানে ২৮টি অবৈধ ইটভাটা চালু ছিল। এর মধ্যে অনেকগুলো অভিযান চালিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ভিন্ন ভিন্ন সময়ে অবৈধ ইটভাটায় অভিযান করে ৪৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। গজালিয়া ইউনিয়নের আজম উল্লাহ খানের এসবিএম ইটভাটাটি একবার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। দুর্গম এলাকার সুযোগ নিয়ে আবারও চালু করেছেন বলে শুনেছি। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহযোগিতা পেলে দ্রুতই আবারও অভিযান চালানো হবে।

প্রতিনিধি/টিবি