images

সারাদেশ

নবান্ন ও পৌষসংক্রান্তি ঘিরে শেরপুরে জমে উঠেছে মাছের মেলা

জেলা প্রতিনিধি

১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৬ এএম

পৌষসংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসব ঘিরে মৌলভীবাজারের শেরপুরে বসেছে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। প্রায় দেড়শ বছরের এই মাছের মেলা এখন এই অঞ্চলে মানুষের জন্য ঐতিহ্যের অংশ হয়ে মিশে আছে।

এই মেলায় সবসময় মানুষের আকর্ষণ থাকে বড় মাছের প্রতি—বোয়াল, চিতল। সঙ্গে রুই, কাতলা, মৃগেল, বাউশ আর দেশীয় ছোট মাছের বাহার। হাওর-নদী থেকে উঠে আসা এসব তরতাজা মাছ বেশি পাওয়া যায়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মাছ নিয়ে মেলায় বসেন ব্যবসায়ীরা। এখানে খুচরা ও পাইকারি মাছ বিক্রি করা হয়। মেলা উপলক্ষে এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ বিরাজ করে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে মেলা ঘুরে দেখা যায়, মাছের পাশাপাশি মেলায় বড় বড় দোকানে নানা ধরনের কৃষিপণ্য ও বিভিন্ন ধরনের আসবাব, শৌখিন জিনিসপত্র, শিশুদের খেলনার সামগ্রী নিয়েও বসেছে অসংখ্য দোকান।

thumbnail_1000185065

গত সোমবার রাত থেকে শুরু হয়ে আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেল পর্যন্ত চলবে এই মেলা। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের শেরপুর কুশিয়ারা নদীর পারে এই মেলা বসে। ঐতিহ্যবাহী এই মেলায় সারারাত ও দিনে পৌষসংক্রান্তি উপলক্ষে পাইকারি ও খুচরা মাছ বিক্রি হয়।

স্থানীয়ভাবে জানা যায়, প্রায় দেড়শ বছর ধরে পৌষ-সংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে শেরপুর কুশিয়ারা নদীর পারে আয়োজন করা হয় এই মাছের উৎসবের। মাছ কেনাবেচার গ্রামীণ এ উৎসবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। দিন-রাতের এই মেলায় হাজার হাজার লোকের সমাগমে কয়েক কোটি টাকার মাছ বেচাকেনা চলে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সুনামগঞ্জ থেকে আসা মাছ ব্যবসায়ী সাহান আহমেদ বলেন, প্রতিবছর এখানে আসি। পাইকারি মাছ বিক্রি করি। আমাদের কাছ থেকে ব্যবসায়ীরা মাছ কিনে বিভিন্ন বাজারে নিয়ে বিক্রি করেন।

thumbnail_1000185063

মৎসজীবী যথি দাস বকুল বলেন, আমি প্রায় ২০ বছর ধরে মাছের ব্যবসা করি। এখান থেকে পাইকারিভাবে মাছ কিনে আমরা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করি।

আরও পড়ুন

মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা উপলক্ষে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।

thumbnail_1000185076

উল্লেখ্য, প্রতিবছর পৌষ সংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসব উপলক্ষে সদর উপজেলার সাধুহাটি গ্রামের জমিদার রাজেন্দ্রনাথ দাম (মথুর বাবু) কুশিয়ারা তীরবর্তী তৎকালীন বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক স্থল মনুমুখে এ মেলার প্রচলন করেছিলেন প্রায় দেড়শ বছর আগে। পরবর্তীতে এই মেলাটি স্থানান্তরিত হয় সদর উপজেলার শেরপুরে। তবে এখনও সেই ঐতিহ্য বহন করে চলে আসছে ‘মাছের মেলা’, যা স্থানীয় সংস্কৃতি আর গ্রামীণ জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিনিধি/টিবি