জেলা প্রতিনিধি
১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ আলম মন্ডল গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে পরিষদে আসছেন না। ফলে চেয়ারম্যানের একটি স্বাক্ষরের জন্য দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে।
সম্প্রতি খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তালুককানুপুর ইউনিয়নে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের বেড়া মালঞ্চ, চিয়ারগ্রাম, দেবপুর, সিংহডাংগাসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ আসছেন জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু সনদ, নাগরিক সনদ, স্থায়ী বাসিন্দা সনদ, ওয়ারিশ সনদ ও ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে। কিন্তু চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় একটি স্বাক্ষরের জন্য তাদের দিনের পর দিন পরিষদের বারান্দায় ঘুরতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের অতিরিক্ত টাকা ও সময় অপচয় হচ্ছে এবং তারা চরম অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। চেয়ারম্যানশূন্য এই পরিষদের দাফতরিক কাজ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন ইউপি সচিব।
গত এক মাস ধরে জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য ঘুরছেন উত্তরপাড়া গ্রামের মকবুল হোসেন। প্রতিদিন এসে দেখেন চেয়ারম্যানের কক্ষের দরজায় বিশাল তালা ঝুলছে। চেয়ারম্যান কবে আসবেন, তার কোনো সদুত্তর পাচ্ছেন না তিনি। মকবুল হোসেনের মতো ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মথুরাপুর গ্রামের গৃহিণী পারভীন বেগম এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিংহডাংগা গ্রামের বৃদ্ধ আলম মিয়াসহ অসংখ্য মানুষ তাদের জরুরি কাজের জন্য দিনের পর দিন পরিষদে এসে বিফল মনোরথে ফিরে যাচ্ছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিষদের একজন সদস্য জানান, চেয়ারম্যান মাসুদ আলম মন্ডল ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসী মানববন্ধনও করেছেন, যা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। গত ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি পরিষদে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন, এমনকি তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। তারা এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মাসুদ রহমান বলেন, ‘চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকায় গ্রাম আদালত, মাসিক সভাসহ পরিষদের অন্যান্য কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
দীর্ঘদিন অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চেয়ারম্যান মাসুদ আলম মন্ডলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, ‘তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির বিষয়টি আমরা জেনেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
প্রতিনিধি/একেবি