images

সারাদেশ

সবুজ পাতার ফাঁকে হলদে ফুলকপির উঁকি, কৃষকের মুখে হাসি

জেলা প্রতিনিধি

১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:১২ পিএম

দিগন্তজোড়া মাঠের মাঝখানে সবুজ পাতার সমাহার। এরই ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে রঙিন ফুলকপি। মাঠজুড়ে শোভা পাচ্ছে নতুন এই সবজি খেত। দেখতে আসছেন অনেকে। ভিন্ন রঙে মুগ্ধ সবাই। এমনই এক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন উদ্যোক্তা নাছের সরকার লুলু। ইতোমধ্যে ভালো ফলন ও দাম পেয়ে হাসি ফুটেছে তার।

সরেজমিনে, সোমবার (১২ জানুয়ারি) গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামে দেখা গেছে- সবুজ পাতার মাঝে হলদে রঙের ফুলকপির অপরূপ দৃশ্য। সেখানে খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন কৃষক লুলু সরকার।  

8

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রবি মৌসুমে সাদুল্লাপুর উপজেলায় সাদা রঙের ফুলকপি নিয়মিত চাষ হলেও রঙিন ফুলকপি চাষ হয় খুবই কম। লক্ষীপুর-রাঘবেন্দপুর এলাকায় এই প্রথম একবিঘা জমিতে চাষ করেছেন কৃষক নাছের সরকার লুলু। স্থানীয় বাজারে রঙিন ফুলকপির দারুণ চাহিদা রয়েছে। এছাড়া উৎপাদন খরচ কম আর লাভ বেশি হওয়ায় এখন আশপাশের অন্যান্য কৃষক এ জাতের ফুলকপি চাষে ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

2

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন- রবি মৌসুমে আলুসহ অন্যান্য ফসল যখন কৃষকের গলার কাঁটা, ঠিক তখনই রঙিন ফুলকপি চাষ করে বাজিমাত করেছেন নাছের সরকার লুলু। তাই প্রতিদিন রঙিন এই ফুলকপি খেত দেখতে সাধারণ ভোক্তাসহ স্থানীয় অনেক কৃষকই ভিড় করছেন। অনেকেই নিচ্ছেন নানা পরামর্শ। কেউ কেউ জমি থেকেই কিনছেন সু-স্বাদু এই রঙিন ফুলকপি।

5

খেত দেখতে আসা স্থানীয় কৃষক পলাশ সরকার বলেন, এই প্রথমবার এমন রঙিন ফুলকপি চাষ হয়েছে আমাদের এলাকায়। ইতোমধ্যে লুলু ভাইয়ের এই খেত দেখতে অনেক মানুষ ভিড় করছেন। আমরা তার কাছে পরামর্শ নিচ্ছি, যাতে আগামীতে এ ফুলকপি চাষ করতে পারি।

আরও পড়ুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাঠে মাঠে হলুদের সমারোহ

1

কৃষি উদ্যোক্তা নাছের সরকার লুলু বলেন, আমি বিভিন্ন ধরনের ফসলের চারা উৎপাদন করে থাকি। পাশাপাশি নানা শাক-সবজিও আবাদ করে আসছি। এ ধারাবাহিকতায় এ বছর প্রথমবার ৩৩ শতক জমিতে রঙিন ফুলকপি চাষ করেছি। এখন ফসল সংগ্রহও শুরু করছি।

লুলু আরও বলেন, এই আবাদে খরচ প্রায় ৪০ হাজার টাকা। বর্তমান বাজার দামে প্রায় দেড় লাখ টাকা বিক্রির আশা করছি। যদি কৃষি বিভাগের পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা পাই তাহলে আগামী বছর আরও বেশি পরিমাণ জমিতে রঙিন ফুলকপির আবাদ করব।

4

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব ভট্টাচার্য জানান, এসএসিপি রেইনস প্রকল্পের আওতায় মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদের জন্য রঙিন ফুলকপি একটি প্রদর্শনী কৃষক লুলুকে দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে অধিক ফলন পেতে তাকে সার্বিক পরামর্শ দেওয়া হয়। সাদা ফুলকপির তুলনায় রঙিন জাতের ফুলকপির পুষ্টিগুণ ও বাজারে চাহিদা থাকায় এ চাষাবাদ অনেকটা লাভজনক।

প্রতিনিধি/এসএস