জেলা প্রতিনিধি
১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১২ এএম
পঞ্চগড়ে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে পঞ্চগড় শহরের চৌরঙ্গী মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিন শিক্ষার্থীরা শহীদ ওসমান হাদি হত্যার দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর থেকেই শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি চলছিল। ঢাকা-তেঁতুলিয়া সড়ক অবরোধ করে কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন তারা। যানজট নিরসনে সেনাবাহিনী ও পুলিশ শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি শেষ করতে বলেন। একপর্যায়ে কর্মসূচি শেষ করে তারা। কর্মসূচি শেষ হতেই সেনাবাহিনীর সদস্যরা শিক্ষার্থীদের উপর লাঠিচার্জ শুরু করেন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। পরে পঞ্চগড় সেনাক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এদিকে, সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। আক্রমণের শিকার হন সাংবাদিকসহ সাধারণ লোকজনও। আহতরা পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
![]()
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, কর্মসূচি শেষ করার পর সেনাবাহিনী আক্রমণ করেছে। কয়েকজনকে বেধরক পিটিয়েছে। তাদের এমন আচরণে যানজট আরও বেড়ে যায় এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়।
আন্দোলনের নেতা ফজলে রাব্বী ও মোকাদ্দেসুর রহমান সান বলেন, আমরা শহীদ ওসমান বিন হাদীর হত্যার বিচার দ্রুত কার্যকরের দাবিতে আন্দোলন করছিলাম। একপর্যায়ে কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করি। কিন্তু তাৎক্ষণিক সেনা সদস্যরা আমাদের উপর হামলা করে। এটা আমরা দেশ প্রেমিক সেনাবাহিনীর কাছে কখনোই কাম্য করি না। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
![]()
পঞ্চগড় আদালতের সিনিয়র আইনজীবী আকবর আলী বলেন, সেনাবাহিনীর এমন আচরণের নিন্দা জানাতে চাই। কর্মসূচি প্রত্যাহারের পর শিক্ষার্থীদের উপর হামলা মেনে নেওয়া যায় না।
পঞ্চগড় সেনাক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ওসমান হাদী হত্যার বিচার দাবির পক্ষে আমরাও। আজকে আন্দোলনের কারণে যানজট তৈরি হলে একজন লেফটেন্যান্ট একাধিকবার সড়কের বাইরে গিয়ে কর্মসূচি চালাতে বলে। একপর্যায়ে যানজট নিরসনের জন্য তাদেরকে সরিয়ে দিতে গেলে লাঠিচার্জের ঘটনা হয়তো ঘটেছে। এটা হলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আমি দুঃখিত। তবে আমাদের সদস্যরাও আহত হয়েছে, এটাও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে উচিত হয়নি। এটা আমরা মিউচুয়ালি সলভ করতে চাই।
প্রতিনিধি/টিবি