উপজেলা প্রতিনিধি
১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো ধরনের প্রচারণা বা প্রার্থীর পক্ষে শুভেচ্ছা ব্যানার-ফেস্টুন টানানো আইনত অপরাধ। কিন্তু ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনে এই বিধিনিষেধের তোয়াক্কা করছেন না প্রার্থীরা। গত কয়েক মাসে টানানো আগাম প্রচারণার ফেস্টুন এখনো রাস্তার মোড়ে মোড়ে শোভা পাচ্ছে। এসব ব্যানার-ফেস্টুনে রয়েছে প্রার্থীদের ছবি সংবলিত শুভেচ্ছা বার্তা। এ অবস্থায় আগামী নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সবার জন্য সমান সুযোগ থাকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তফসিল ঘোষণার পর দোহার উপজেলা প্রশাসনিক এলাকা থেকে কিছু বিলবোর্ড ও ব্যানার সরানো হলেও সংসদীয় এলাকার বিভিন্ন স্থানে এখনো আগাম প্রচার সামগ্রী ও তোরণ রয়ে গেছে। দোহার থানার মোড় থেকে ফুলতলা বাজার এবং লটাখোলা করম আলী মোড় থেকে বাহ্রা এলাকা পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে বিভিন্ন প্রার্থীর ব্যানার দেখা যায়। এর মধ্যে বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট অন্তরা সেলিমা হুদার ব্যানার-ফেস্টুন চোখে পড়ার মতো। অন্যদিকে নবাবগঞ্জ উপজেলার মাঝিরকান্দা, বান্দুরা, শিকারীপাড়া ও টিকরপুর এলাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যানার এখনো ঝুলছে।
আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রতিদিনই নির্বাচনী উঠান বৈঠক করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতের বিরুদ্ধে। দল দুটির মধ্যে এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও রয়েছে। জামায়াতের দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনার অনুষ্ঠানে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট চাইছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে বিএনপির অভিযোগ, ওসমান হাদির মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইছে জামায়াত। সাধারণ ভোটারদের আশঙ্কা, এখনই প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে প্রতীক বরাদ্দের পর পরিস্থিতি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, ‘বিভিন্ন এলাকায় এখনো অনেক প্রার্থীর ব্যানার-ফেস্টুন রয়েছে বলে কর্মীরা আমাদের জানিয়েছেন। এসব তদারকি করার দায়িত্ব নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। আমরা এখনো ইসিতে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ দিইনি।’
বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক বলেন, ‘প্রতীক বরাদ্দের আগে কেউ ভোট চেয়ে থাকলে তা অবশ্যই আচরণবিধি লঙ্ঘন। এ বিষয়ে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

এ বিষয়ে দোহার উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম জানান, ‘প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো প্রার্থীরই ভোট চাওয়ার সুযোগ নেই। কেউ যদি সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করেন, তবে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রতিনিধি/একেবি