১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই গ্রুপের কমপক্ষে ৮ জন আহত হয়েছেন।
পরে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে যুবদল নেতা জয়নাল আবেদীনসহ উভয় গ্রুপের ৮জনকে আটক করেছে।
ফতুল্লার শিহাচর হাজীবাড়ি মোড় এলাকায় শনিবার বিকেলে ফতুল্লা থানা তাঁতীদলের সভাপতি ইউনুস মাস্টার ও ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীনের গ্রুপের মধ্যে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন- কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান দোলন, আকাশ, জুয়েল, রিয়াজুল, রাজিব, জিহাদ ও রশিদ। এসময় কৌশলে পালিয়ে যান ফতুল্লা থানা তাঁতীদলের সভাপতি ইউনুস মাস্টার
প্রত্যক্ষর্দশীরা জানান, অভিযানে তাদের কয়েকজনের কাছ থেকে গাজা ও হেরোইন জব্দ করেছে ফতুল্লা থানা পুলিশ। শিহাচর হাজীবাড়ি মোড় এলাকায় ইউনুস মাস্টার ও কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীনের সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরেই এলাকার প্রভাব বিস্তার অর্থাৎ কলকারখানার ওয়েস্টেজ মাল ও ঝুট, ভূমি দস্যুতা, মাদক ব্যবসা, ছিনতাই এবং এলাকার মাতব্বরী নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।
সেই বিরোধের জের ধরে শনিবার দুপুর থেকে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। উভয় গ্রুপের কয়েক'শ সন্ত্রাসী হাতে ধারালো দেশীয় অস্ত্র আর হাতবোমা নিয়ে সংঘর্ষের প্রস্তুতি নেয়।
এক পর্যায়ে শনিবার বিকেল ৩টার সময় উভয় গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় ব্যাপক বোমা বিস্ফোরন ঘটিয়ে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংক সৃস্টি করে ধারালো অস্ত্র হাতে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।
এসময় ধারালো অস্ত্র ও ইটপাটকেলের আঘাতে অন্তত ৮জন আহত হয়। তখন ভয়ে এলাকাবাসী দৌড়ে বাড়ি ঘরে দরজা জানালা বন্ধ করে আশ্রয় নেয়।
ওইসময় প্রায় ১৫/২০ মিনিট এ সংঘর্ষ চলে। এরপর পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র্যাবসহ যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ধাওয়া করে উভয় গ্রুপের ৮ জনকে আটক করেন।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আব্দুল মান্নান জানান, উভয় গ্রুপের ৮জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের কয়েকজনের কাছ থেকে গাজা ও হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে বিস্ফোরিত বোমার কিছু অংশ। আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলখানায় পাঠানো হয়েছে।