images

সারাদেশ

নীলফামারীতে ১৩০৬ টাকার এলপিজি গ্যাস বিক্রি হচ্ছে ২১০০ টাকায়

জেলা প্রতিনিধি

০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম

নীলফামারী জেলা সদর ও উপজেলাগুলোতে হঠাৎ করেই এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এক শ্রেণির ডিলার ও পরিবেশক কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সরকার নির্ধারিত দাম উপেক্ষা করে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করছেন।

সরকার নির্ধারিত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা হলেও স্থানীয় বাজারে তা ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। দাম বাড়ার আগেই অতিরিক্ত দামে বিক্রি শুরু হলেও নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পরপরই বাজার থেকে গ্যাস কার্যত উধাও হয়ে গেছে। ফলে সাধারণ ভোক্তা, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

খুচরা বিক্রেতারা জানান, ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। অল্প কিছু সরবরাহ এলেও তা মুহূর্তেই ফুরিয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কোনো প্রকার মেমো ছাড়াই চড়া দামে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

উত্তরা ইপিজেড এলাকার শ্রমিক লিপি আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, ‘গ্যাস না পেয়ে এই হাড়কাঁপা শীতের মধ্যে মাটির চুলায় রান্না করতে হচ্ছে। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।’ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, অধিকাংশ কোম্পানির গ্যাস বাজারে নেই। যেটুকু পাওয়া যাচ্ছে, তাও মেমো ছাড়া বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

পরিবেশক প্রতিনিধিদের দাবি: অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স বি.এস ট্রেডার্সের প্রতিনিধি ভোলানাথ সরকার বলেন, ‘আমরা সিরাজগঞ্জ ও খুলনা থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস সংগ্রহ করি। তবে নিজস্ব খরচে নীলফামারীতে আনতে পরিবহন ব্যয় ও অন্যান্য খরচ অনেক বেশি পড়ে যায়। সব মিলিয়ে আমরা ব্যবসায়ী পর্যায়ে প্রতি সিলিন্ডার ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করছি।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বাজার মনিটরিং ও অভিযান চালিয়ে মজুতদারি বন্ধ না করলে এই কৃত্রিম সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।

প্রতিনিধি/একেবি