images

সারাদেশ

শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে ঠাকুরগাঁও, তাপমাত্রা নেমেছে ৯ ডিগ্রিতে

জেলা প্রতিনিধি

০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম

দুই দিনের সাময়িক স্বস্তিদায়ক উষ্ণতার পর ঠাকুরগাঁওয়ে আবারও জেঁকে বসেছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এ জেলায় গত দুই দিন ধরে হিমেল বাতাস, ঘন কুয়াশা ও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মতো কুয়াশার কারণে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন।

চলতি মৌসুমের তৃতীয় দফার এই শৈত্যপ্রবাহে সূর্যের দেখা মিলছে না বললেই চলে। দুপুরে মাত্র এক থেকে দুই ঘণ্টার জন্য সূর্যের মুখ দেখা গেলেও বাকি সময় আকাশ ঢেকে থাকছে ঘন কুয়াশায়। অনেক সময় কুয়াশা এতটাই ঘন হচ্ছে যে তা গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মতো অনুভূত হচ্ছে। ফলে সড়ক-মহাসড়কে যানবাহন চলাচল করছে হেডলাইট জ্বালিয়ে, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও।

Takur

প্রচণ্ড ঠান্ডা ও হিমেল বাতাসে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও ছিন্নমূল মানুষজন। কাজে বের হতে না পেরে অনেকেই আয়-রোজগার হারাচ্ছেন। খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারী মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

আরও পড়ুন

দুই দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই, পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রির ঘরে

তীব্র শীতের প্রভাবে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া এবং ডায়রিয়াজনিত সমস্যা নিয়ে প্রতিদিনই রোগীরা হাসপাতালে ভিড় করছেন। চিকিৎসকরা শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন।

এদিকে, অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি শীতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। শীতবস্ত্রের অভাবে অনেক মানুষ বাধ্য হয়ে কনকনে ঠান্ডায় দিন কাটাচ্ছেন।

Thakur_gaw

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. মাজেদুল ইসলাম ঢাকা মেইলকে জানান, সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি ও সর্বোচ্চ ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তিনি আরও জানান, বর্তমান আবহাওয়ার প্রেক্ষিতে কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। বিশেষ করে বোরো ও শীতকালীন ফসল রক্ষায় বাড়তি সতর্কতা গ্রহণের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।‌

প্রতিনিধি/এসএস