জেলা প্রতিনিধি
০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
নীলফামারী-৪ আসনের (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুন অর রশিদ মামুনের একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। ভিডিওতে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বর্তমান নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কড়া ভাষায় বিষোদগার করেছেন। আসন্ন নির্বাচনকে ‘সাজানো’ এবং ‘পাতানো’ দাবি করে তিনি বর্তমান প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেন। ভিডিওর এক পর্যায় তিনি বলেন, আপনাদের জন্য শেখ হাসিনাই ঠিক ছিল, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার জন্য আন্দোলন করব।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে মামুন অর রশিদ মামুনকে অত্যন্ত উত্তেজিত অবস্থায় দেখা যায়। তিনি অভিযোগ করেন যে, বর্তমান সরকার স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচন করার সুযোগ দিচ্ছে না এবং একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে জেতানোর জন্য নির্বাচনের নকশা তৈরি করছে। তিনি বলেন, এটি একটি ভাগ-বাটোয়ারার নির্বাচন হতে যাচ্ছে। নীতি-আদর্শের আর কিছুই বাকি নেই।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে মামুন তার রাজনৈতিক অবস্থানে আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপট টেনে তিনি বলেন, জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছিলেন বর্তমান পরিবর্তনের জন্য, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির ওপর তিনি চরমভাবে হতাশ। তিনি বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা এবং সরকারের প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তোমাদের চেয়ে শেখ হাসিনাই ভালো ছিলেন। এখন শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আন্দোলন করব।
নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, সরকার স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এতো ভয় পায় কেন? আমাদের নির্বাচনের সুযোগ দাও। তোমরা যা করছ তার বিচার এদেশের মানুষই করবে। নিজের বক্তব্যের পরিণাম সম্পর্কে সচেতনতা প্রকাশ করে তিনি আরও যোগ করেন, এই সত্য কথাগুলো বলার জন্য যদি আমার ফাঁসিও হয়, আমি তাতে রাজি আছি। তবুও আমি বলব, এরা একটা পাতানো নির্বাচনের পরিকল্পনা করছে।
মামুন অর রশিদ মামুনের এই আক্রমণাত্মক বক্তব্য এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক মহলে তার এই ভোলবদল এবং সরাসরি শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ঘোষণা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মামুন অর রশিদ মামুন ঢাকা মেইলকে বলেন, নির্বাচন করার সুযোগ দিলো না। আমরা নির্বাচন করতে চাই, কেন আমাদের মনোনয়ন দেবে না রাষ্ট্র।
প্রতিনিধি/এসএস