images

সারাদেশ

বিএসএফের হাতে আটক বাংলাদেশিকে হত্যার অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি

০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪১ পিএম

চাঁপাইনবাবগঞ্জের জহুরপুরটেক সীমান্তের ওপারে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে আটকের পর রবিউল ইসলাম রবি (৩৫) নামের এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বিএসএফ বিষয়টিকে ‘অসুস্থতাজনিত মৃত্যু’ দাবি করলেও স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের অভিযোগ, আটকের পর নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিনগত রাতে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বিএসএফের হাতে আটক হন তিনি।

নিহত রবিউল ইসলাম রবি সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের সাতরশিয়া গ্রামের এজাবুর রহমানের ছেলে।

এদিকে, একই রাতে গরু চোরাচালান করতে গিয়ে আরেক বাংলাদেশি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ ব্যক্তি সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের চাকপাড়া গ্রামের মৃত ফিরোজ কবিরের ছেলে মো. লাল কাজল (৩৪)।

স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৪টার দিকে সদর উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের জহুরপুরটেক সীমান্ত দিয়ে কয়েকজন বাংলাদেশি গরু চোরাচালানের উদ্দেশে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার নুরপুর এলাকায় প্রবেশ করে। এ সময় রঘুনাথগঞ্জ থানা এলাকার বিএসএফের পাতলা টোলা সাব-ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের ধাওয়া করলে অন্যারা পালাতে সক্ষম হলেও, রবিউল বিএসএফের হাতে ধরা পড়ে। আটকের পর রোববার সকালে তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিকেলে বিজিবির কাছে অভিযোগ দেয়া হয় পরিবারের পক্ষ থেকে।

এ বিষয়ে নারায়ণপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রমজান আলী বলেন, ভোর রাতে কয়েকজন মিলে গরু আনতে ভারতে যায়। পরে জানতে পারি রবিউল ইসলামকে বিএসএফ ধরে নিয়ে গেছে। এরপর স্থানীয়দের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর পাই। তবে তিনি দাবি করেন আটকের পর নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর বিএসএফের কাছে জানতে চেয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পতাকা বৈঠকে বিএসএফ জানিয়েছে, খালি গায়ে ও হ্যাফ প্যান্ট পরা অবস্থায় রবিউলকে আটক করা হয়। এ সময় তার পুরো শরীর পানিতে ভেজা ছিল। পরে ক্যাম্পে নেয়ার পর তাকে জামা-কাপড় দেয়া হলেও, তার শরীরে খিঁচুনি দেখা দেয়। এ সময় তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে তার মৃত্যু হয়। বিএসএফ আরও জানিয়েছে সোমবার (৫ ডিসেম্বর) তার মৃতদেহ হস্তান্তর করা হতে পারে।

বিজিবি অধিনায়ক আরও জানান, বিএসএফের দেয়া তথ্য অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে অসুস্থতাজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে মরদেহ ফেরত পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে এই মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা। নিহতের বাবাও নিজের ছেলেকে মৃগী রোগী বলে জানিয়েছেন বিজিবি অধিনায়ক।

প্রতিনিধি/এএস