জেলা প্রতিনিধি
০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৩ এএম
মাদারীপুরে সরকারি রাস্তার ইট তুলে নিতে বাধা দেওয়ায় সংরক্ষিত এক নারী ইউপি সদস্য ও তার স্বামীর ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় ইউপি সদস্যের স্বামী তোতা মাতুব্বরের ৩টি আঙুল কেটে গিয়ে রক্তাক্ত জখম হয়। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও বাধা দেয় হামলাকারীরা। পরে পুলিশ এসে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার বদরপাশা ইউনিয়নের চরকান্দি দ্বারাদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাজৈর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই নারী ইউপি সদস্য রেবেকা বেগম (৫০)। তিনি বদরপাশা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি।
রাতে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম।
অভিযুক্তরা হলেন— রাজৈর উপজেলার চরকান্দি দ্বারাদিয়া গ্রামের আলম মাতুব্বরের স্ত্রী কলি আক্তার (২১) ও বোনজামাই বক্কার বিশ্বাস (৪৫) এবং রাজৈরের গোপালগঞ্জ গ্রামের লোকমান হাওলাদার (৪৫) ও তার ছেলে কাইয়ুম হাওলাদার (২২)।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে রাজৈর উপজেলার চরকান্দি দ্বারাদিয়া গ্রামে সরকারি প্রকল্পের টাকায় তৈরি রাস্তার ইট তুলে নিয়ে যায় ওই এলাকার কলি আক্তার, বক্কার বিশ্বাস, লোকমান ও তার ছেলে কাইয়ুমসহ তাদের স্বজনরা। তাদের বাধা দিতে গেলে বদরপাশা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য রেবেকা বেগম ও তার স্বামী তোতা মাতুব্বরের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় রামদা দিয়ে কোপ দিলে তোতা মাতুব্বরের তিনটি আঙুল কেটে যায় এবং তিনি রক্তাক্ত জখম হন। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়েও স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে আহতদের চিকিৎসা নিতে বাধা দেয় হামলাকারীরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য রেবেকা বেগম বাদী হয়ে রাজৈর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্যর স্বামী আহত তোতা মাতুব্বর বলেন, হামলাকারীদের রামদায়ের কোপে আমার হাতের তিনটি আঙুল কেটে গেছে। হাসপাতালে গেলে সেখানেও তারা আবারও হামলা করে। পরে পুলিশ এসে আমাদের রক্ষা করে ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেয়। এর উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।
![]()
ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য রেবেকা বেগম বলেন, সরকারি টাকায় তৈরি রাস্তার ইট তুলে নিয়ে যাচ্ছিল কলিসহ তাদের লোকজন। আমরা বাধা দেই। এজন্য ক্ষিপ্ত হয়ে তারা দলাবদ্ধভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং আমার স্বামীকে পিটিয়ে কুপিয়ে আহত করে। আমাকেও মারধর করে। সরকারের কাছে সরকারি সম্পদ রক্ষা ও আমাদের ওপর হামলার উপযুক্ত বিচার দাবি করি।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের মতামত জানার চেষ্টা করলেও তাদের পাওয়া যায়নি। এছাড়া কাইয়ুম হাওলাদারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
মাদারীপুরের রাজৈর থানার ওসি শেখ আমিনুল ইসলাম বলেন, রাস্তার ইট তোলাকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্যের স্বামীকে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। এ সময় খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/টিবি