জেলা প্রতিনিধি
০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
সংসদ নির্বাচন এলেই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে হাজির হন কাজী জাহাঙ্গীর। তবে মনোনয়ন বাতিল হয়ে যাওয়ায় কোনো নির্বাচনেই অংশ নিতে পারেননি তিনি৷ তবুও মানুষ ভালোবেসে তাকে ‘এমপি সাহেব’ বলে ডাকেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য জাহাঙ্গীরের দাখিল করা এবারের মনোনয়নপত্রটিও বাতিল করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যাচাই-বাছাই শেষে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরিত তালিকায় গরমিল পাওয়ায় তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হয়। এ নিয়ে টানা ৬টি সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য দাখিল করা মনোনয়নপত্র বাতিল হলো জাহাঙ্গীরের।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের কাজীপাড়া এলাকার কাজী আব্দুল হান্নান ভুঁইয়া ও হামিদা বেগম দম্পতির ৯ সন্তানের মধ্যে সবার বড় কাজী জাহাঙ্গীর। হলফনামায় নিজের পেশা হিসেবে কৃষক উল্লেখ করেছেন তিনি।
দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ড ভালো না লাগা এবং অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করতেই সংসদ সদস্য হতে চান বলে জানান জাহাঙ্গীর। তাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে মোট ৬টি সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তবে প্রতিবারই কাগজপত্রে ত্রুটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এক শতাংশ ভোটারের সাক্ষরযুক্ত তালিকায় গরমিল থাকায় বাতিল করে দেওয়া হয় জাহাঙ্গীরের মনোনয়নপত্র।
ষষ্ঠবারের মতো মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রসঙ্গে কাজী জাহাঙ্গীর জানান, এক শতাংশ ভোটার তালিকায় গরমিলের কারণে এবারও তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হয়েছে। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তার আদেশের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করবেন তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসেছে। কিন্তু সংসদ নির্বাচনেই বৈষম্য রয়ে গেল। দলীয় প্রার্থীদের ভোটারদের সমর্থনের তালিকা দিতে হয় না। অথচ স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনস্বরূপ স্বাক্ষরিত তালিকা জমা দিতে হয়। এটি স্পষ্টত বৈষম্য। এজন্য অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থী শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। তাই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য এক শতাংশ ভোটারের সাক্ষরযুক্ত তালিকা জমাদানের নিয়মটি বাতিলের দাবি জানান তিনি।
প্রতিনিধি/এসএস