জেলা প্রতিনিধি
০২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
গাইবান্ধার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন নিভৃত পল্লীর কৃষকরা বোরো ধান রোপণের লক্ষ্যে অনেক আগেই বীজ বপন করেছিলেন। শুরুতে বীজতলা সবুজ ও সতেজ থাকলেও বর্তমানে তা হলদে হয়ে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। জেলায় অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলাগুলো নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে বোরো চারার উৎপাদন নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ২৯ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পরিমাণ জমিতে চারা রোপণের জন্য ৬ হাজার ৬৫৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কৃষিভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত গাইবান্ধা জেলার অধিকাংশ মানুষই কৃষিনির্ভর। বিভিন্ন ফসলের মধ্যে ধান চাষই তাদের প্রধান অবলম্বন। বিশেষ করে বোরো ধান উৎপাদন করেই তারা পরিবারের অধিকাংশ চাহিদা মেটানোর স্বপ্ন দেখেন। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই এবারও বীজ বপন করেছিলেন কৃষকরা। চারা গজানোর পর সবুজ রঙ দেখে কৃষকদের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা দিলেও প্রকৃতি যেন বাধার সৃষ্টি করেছে। তীব্র শীত আর কুয়াশায় বীজতলাগুলো এখন হলদে হয়ে মড়ক ধরতে শুরু করেছে। ফলে চারা সংকটে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
কৃষক মিথুন প্রধান বলেন, ‘কুয়াশায় অনেক বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চারাগুলো বাঁচাতে বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ করেও কোনো সুফল মিলছে না। এই সংকটে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদেরও মাঠে দেখা যাচ্ছে না। ফলে বোরো চাষ বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে।’
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক খোরশেদ আলম জানান, কুয়াশায় যাতে বীজতলা নষ্ট না হয়, সেজন্য পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা এবং পরিমাণমতো সার ও পানি দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিনিধি/একেবি