images

সারাদেশ

হেভিওয়েটদের জয়ে বাধা হতে পারে স্বতন্ত্র ও আঞ্চলিক দল

০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে ততই বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ ও হিসাব-নিকাশ। সবুজ পাহাড়ের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি বুঝতে দেশের মূল ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি আঞ্চলিক দলগুলোর অবস্থান এবং পাহাড়ি-বাঙালি সমীকরণ মেলাতে ব্যস্ত বিশ্লেষকরা।

এই আসনে এবার বড় দলগুলোর জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্বতন্ত্র ও আঞ্চলিক দল সমর্থিত প্রার্থীরা। বিশেষ করে পাহাড়ি ভোটাররা একক প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হলে পাল্টে যেতে পারে জয়ের চিরচেনা সমীকরণ।

প্রার্থী ও সমীকরণ: ২৯৮ নং খাগড়াছড়ি আসনে বিএনপি ও জামায়াতসহ মোট ১৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। উল্লেখযোগ্য প্রার্থীরা হলেন:

বিএনপি: আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া; বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: মো. এয়াকুব আলী; জাতীয় পার্টি: মিথিলা রোয়াজা; ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ: মো. কাউসার; গণঅধিকার পরিষদ: দীনময় রোয়াজা। 

এছাড়াও সমীরণ দেওয়ান, সন্তোষিত চাকমা, লাব্রিচাই মারমা ও জিরুনা ত্রিপুরার মতো প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে রয়েছেন। এদিকে, ব্যক্তিগত কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী অ্যাডভোকেট মনজিলা সুলতানা ঝুমা।

ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও জেএসএস (এমএন লারমা) শুরুতে নীরব থাকলেও বর্তমানে ভোটের মাঠে সরব হয়ে উঠেছে। ১২ ডিসেম্বর ইউপিডিএফ সভাপতি প্রসিত বিকাশ খীসা এক বিবৃতিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেওয়ায় রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন মোড় নিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউপিডিএফ যদি তাদের শক্তিশালী কোনো প্রার্থী দেয়, তবে তা বিএনপি ও জামায়াতের জয়লাভের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

অন্যদিকে, জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-এমএন লারমা) সরাসরি প্রার্থী না দিলেও পছন্দের কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। পাহাড়ি ভোটারদের বড় একটি অংশ আঞ্চলিক দলগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করায় জাতীয় দলগুলোর জন্য জয়ের পথ কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে।

খাগড়াছড়ির বর্তমান পরিস্থিতি বিগত বছরগুলোর চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জেলায় সহিংসতায় সাতজনের মৃত্যু এবং সাম্প্রতিক কিছু অস্থিতিশীল ঘটনা পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মনে চাপা ক্ষোভ তৈরি করেছে। ভূমি বিরোধ ও নিরাপত্তা প্রশ্নে জাতীয় দলগুলোর দীর্ঘদিনের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট হয়ে পাহাড়িরা এবার একজন ‘একক স্বতন্ত্র’ প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছেন বলে জানা গেছে।

প্রার্থীদের বক্তব্য: বিএনপি প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়া জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, ‘পাহাড়ি-বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীর মানুষ আমাকে সমর্থন দিয়েছে। আমার সময়ে হওয়া উন্নয়ন কাজগুলোই জনগণের ভোট পেতে সহায়ক হবে।’

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এয়াকুব আলী বলেন, ‘আমরা দুর্নীতিমুক্ত এবং পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতির এক নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে ইনসাফের পক্ষে ভোট চাই।’

প্রায় ৭ লাখ ১১ হাজার জনসংখ্যার এই জেলায় মোট ভোটার ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৬৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৭৬ হাজার ১৩ এবং নারী ২ লাখ ৬৯ হাজার ১১ জন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতিনিধি/একেবি