জেলা প্রতিনিধি
০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:০১ এএম
আজ পল্লীকবি জসীম উদ্দীনের ১২৩তম জন্মবার্ষিকী। পল্লী কবি জসীম উদ্দীন ১৯০৩ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম দিনে ফরিদপুর সদর উপজেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে পল্লী কবির বাসভবনে সকাল ৯টার দিকে কবির কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, আলোচনা সভা দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন— ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্লা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম। এছাড়া ফরিদপুরের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তাবৃন্দ সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।
‘পল্লীকবি’ উপাধিতে ভূষিত, জসীম উদ্দীন আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে লালিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ আধুনিক কবি। ঐতিহ্যবাহী বাংলা কবিতার মূল ধারাটিকে নগর সভায় নিয়ে আসার কৃতিত্ব জসীম উদ্দীনের। তার নকশী কাঁথার মাঠ ও সোজন বাদিয়ার ঘাট বাংলা ভাষার গীতিময় কবিতার উৎকৃষ্টতম নিদর্শনগুলোর অন্যতম। তার কবিতা বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তার লেখা অসংখ্য পল্লিগীতি এখনো গ্রাম বাংলার মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়। আমার হার কালা করলাম রে, আমায় ভাসাইলি রে, বন্ধু কাজল ভ্রমরা রে গানগুলো আজও আবেদন ছড়ায়। তার কর্মজীবন শুরু হয় পল্লী সংগীতের সংগ্রাহক হিসেবে।
জসীম উদ্দীন একদম অল্প বয়স থেকেই লেখালেখি শুরু করেন। কলেজে অধ্যয়নরত থাকা অবস্থায়, পরিবার এবং বিয়োগান্ত দৃশ্যে, একদম সাবলীল ভাষায় তিনি বিশেষ আলোচিত কবিতা কবর লেখেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাবস্থায় এই কবিতাটি প্রবেশিকার বাংলা পাঠ্যবইয়ে স্থান পায়।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা জীবন শেষ করে জসীম উদ্দীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ বছর শিক্ষকতা করেন। ১৯৪৪ সালে শিক্ষকতা ছেড়ে তিনি বঙ্গীয় প্রাদেশিক সরকার এবং পরে পূর্ব পাকিস্তান সরকারের প্রচার বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৯৬২ সালে অবসর গ্রহণ করেন। জসীম উদ্দীন ছিলেন প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী এবং সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার একজন দৃঢ় সমর্থক। তিনি ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা।
জসীম উদ্দীন প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। তিনি ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন।
১৪ মার্চ ১৯৭৬ সালে ৭৩ বছর বয়সে কবি ঢাকায় মৃত্যু বরণ করেন।
প্রতিনিধি/টিবি