images

সারাদেশ

ঈদ নিয়ে ভাবনা নেই শাহ আলমের! 

জেলা প্রতিনিধি

০৯ জুলাই ২০২২, ০২:০৪ পিএম

ঘড়ির কাঁটায় দুপুর পেরিয়ে সময় ঠেকেছে আড়াইটার ঘরে। কাঠ ফাঁটা রোদে রাজশাহীর পদ্মার পাড়ে ঘুরে ঘুরে ফুলের মুকুট বিক্রি করছিলেন শাহ আলম (৬২)। নগরীর যান্ত্রিকতাকে পাশ কাটিয়ে একটু পরিশ্রান্তির খোঁজে পদ্মার পাড়ে আসেন অনেকেই। আগত বিনোদনপ্রেমিদের মনে বাড়তি আনন্দ জোগাতে বড়ই নিয়ামক হিসেবে কাজ করে শাহ আলমদের এসব মুকুট। 

স্ত্রী-কন্যা থেকে শুরু করে বান্ধবী কিংবা প্রিয় মানুষটির জন্য এসব মুকুটে থাকে বাড়তি চাহিদা। বাস্তবিক কোনো ফুল না হলেও কাগজে ও হরেক রকম রংয়ে যেন প্রাণ পেয়েছে এসব কাগজিয় ফুলের মুকুট। যেন ফুলের মুকুট ছাড়া মেয়েদের সৌন্দর্যের পূর্ণতা পায় না। 

নাটোরের বড়াইগ্রামের এই ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ শাহ আলমের সঙ্গে সম্প্রতি কথা হয় ঢাকা মেইলের। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক তিনি। দুই মেয়ে ও এক ছেলে বিয়ের পর আলাদা হওয়ায় ছোট ছেলে আর স্ত্রীকে নিয়েই তার সংসার। থাকেন নাটোরের আব্দুলপুর রেল জংশন এলাকায়। 

কথা বলে জানা যায়, এক সময় দিন মজুরি করে সংসারের খরচ চালাতেন তিনি। রিকশাও চালিয়েছেন দীর্ঘ দিন। বয়সের ভারে নুয়ে পড়ে নতুন পথ বেছে নিতে হয়েছে তাকে। 

গত কয়েক মাস ধরে ফেরি করে কাগজের তৈরি এসব ফুলের মুকুট বিক্রি করছেন তিনি। সপ্তাহে তিন দিন বিভিন্ন উপকরণ সংগ্রহ করে তৈরি করেন ফুলের মুকুট। পরে এসব মুকুট নিয়ে বেরিয়ে পড়েন বিক্রির উদ্দেশ্যে। 

প্রতি শুক্রবার রাজশাহীর বাঘা উপজেলার শাহী মসজিদ থেকে শুরু করেন বিক্রির কাজ। বিশেষ দিন হওয়ায় মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের আনাগোনা বেশি থাকায় ওই জায়গাটি বেছে নিয়েছেন তিনি। 

আর বাকি দিনগুলোতে রাজশাহীর পদ্মা পাড়সহ নগরীর বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে বিক্রি করেন মুকুট। প্রতিদিন সকালে ট্রেনে চড়ে ফুলের মুকুট বিক্রির জন্য রাজশাহী আসেন তিনি। দিনভর বিক্রি করে যা লাভ হয় তাই নিয়েই রাতে বাসায় ফিরেন তিনি। 

জানতে চাইলে শাহ আলম বলেন, বগুড়া থেকে কাগজ এনে আমি নিজেই মুকুট তৈরি করি। প্রতিটি মুকুট তৈরি করতে খরচ হয় ৪৫ টাকার মতো। বিক্রি হয় ৭০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে। কেউ আবার অনেক দামাদামি করে, তখন ৬০/৬৫ টাকাতেও বিক্রি করি। 

তিনি আরও বলেন, প্রতি শুক্রবার সকালে বাঘা শাহী মসজিদ এলাকায় বিক্রি শুরু করি। শনিবার, রোববার ও সোমবার রাজশাহীর পদ্মা পাড়, টি বাঁধে বিক্রি করি। সকালের ট্রেন ধরে আসি আবার রাতের ট্রেন ধরে আব্দুলপুর যাই। 

কুরবানির ঈদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঈদ নিয়ে তেমন কোনো চিন্তা নেই। কুরবানি দিতে পারলে আনন্দ লাগে। মনটাও হাসিখুশি থাকে। ছেলেমেয়েরাও হাসিখুশি থাকে। কিন্তু গরীব মানুষ হওয়ায় কুরবানি দিতে না পারায় মনটা খারাপই থাকে, মনে দুঃখ আসে। 

তিনি আরও বলেন, কুরবানি দিতে তো ইচ্ছে হয়। কুরবানি দিতে পারলে ছেলেমেয়েরাও খুশি হত। তাদের আনন্দের সীমা থাকে না। কিন্তু আর্থিক অবস্থা তো ভালো না। তাই ইচ্ছে হলেও উপায় নেই কুরবানি দেওয়ার। 

প্রতিনিধি/এএ