images

সারাদেশ

দর্শনায় কেরু শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের নির্বাচন নিয়ে সংঘর্ষ

জেলা প্রতিনিধি

২৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:২৫ পিএম

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় অবস্থিত কেরু অ্যান্ড কোম্পানি শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা নির্বাচন দাবিকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ইউনিয়নের দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন শ্রমিক ও বহিরাগত ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনা সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন শ্রমিক আব্দুল মোতালেব (৫০), রবিউল ইসলাম (৪৮), বহিরাগত সালাউদ্দিন (৩৫), উজ্জ্বল (৪০), সাইফুল ইসলাম মকুল (৫০), হিরোক (৪৮), রাসেল উদ্দিন টগর (৫০) সহ আরও কয়েকজন। তাঁদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাত থেকেই কেরু ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়াতে থাকে। নির্বাচন না হওয়া এবং নেতৃত্ব সংকট শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি তৈয়ব আলী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম প্রিন্সের নেতৃত্বে পূর্বঘোষিত নির্বাচনের দাবিতে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন কেরু অ্যান্ড কোম্পানির সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহম্মেদ সবুজ এবং বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাব্বিক হাসান পরিকল্পিতভাবে ইউনিয়ন নির্বাচনের প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার চেষ্টা করছেন।

সমাবেশ চলাকালে এমডি রাব্বিক হাসান আলোচনার জন্য সাবেক সভাপতি সবুজকে অফিসে ডাকেন। সবুজ সমর্থকদের নিয়ে অফিসে প্রবেশ করলে হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে, বহিরাগত কয়েকজন ব্যক্তি অফিস কক্ষে ঢুকে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক মোতালেবের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

অল্প সময়ের মধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। কেরু ক্যাম্পাস, প্রশাসনিক ভবন ও আশপাশের এলাকা মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে দর্শনা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কিছুক্ষণ পর সেনা সদস্যদের একটি দলও অভিযানে যোগ দেয়। নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো কেরু ক্যাম্পাসজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

দর্শনা থানার ওসি (তদন্ত) সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনীও মাঠে রয়েছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত, তবে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি।’

নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র ও সংঘর্ষের ঘটনায় নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির এমডি রাব্বিক হাসান বলেন, ‘দুই পক্ষকে একসাথে বসিয়ে নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা করার জন্যই ডাকা হয়েছিল। কিন্তু অফিসে ঢোকার পর এক পক্ষ হঠাৎ অপর পক্ষের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমাকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। শ্রম আইনে ইউনিয়ন নির্বাচনে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ।’

সংঘর্ষের পর তৈয়ব–প্রিন্স গ্রুপ কেরুর জেনারেল অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে এবং দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়ে স্লোগান দিতে থাকে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পুরো কেরু এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। শ্রমিকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

প্রতিনিধি/একেবি