images

শিক্ষা / সারাদেশ

বাকৃবি ক্যাম্পাসে সিআরপি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপেশাদার আচরণের অভিযোগ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

২০ নভেম্বর ২০২৫, ০৫:৪১ পিএম

ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসের ‘সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড’ (সিআরপি) কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং রোগীদের অভিভাবকদের অভিযোগ, সেবা নিতে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টাফরা অপেশাদার আচরণ করেন। বিশেষ করে শিশু থেরাপি সেবায় অনিয়ম, ঘন ঘন থেরাপিস্ট পরিবর্তন, সেবার সময় সংকোচন এবং অভিভাবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের কারণে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

২০১৭ সালে বাকৃবির সঙ্গে এক সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে সিআরপি তাদের কার্যক্রম শুরু করে। চুক্তির আওতায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভবনের ২ হাজার ৫০০ বর্গফুট জায়গা প্রতি বছর মাত্র ১০০ টাকা নামমাত্র ভাড়ায় ব্যবহারের অনুমতি পায় প্রতিষ্ঠানটি।

বাকৃবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল হাসান ভূঞা নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, একজন আত্মীয়কে (কৃষক) চিকিৎসার জন্য নিয়ে গিয়ে ছাড়ের আবেদন করতে তিনি স্টাফ ইউনুসের দুর্ব্যবহারের শিকার হন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘দরখাস্তের প্রক্রিয়া জানতে চাইলে আমাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়।’ তিনি আরও জানান, বহু কষ্টে ছাড় পেলেও পরবর্তীতে তার আত্মীয়ের নির্ধারিত সেশন সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয়।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সেন্টারের ম্যানেজার রাফিউল করিম বলেন, ‘শিক্ষক-কর্মচারীরা নিয়ম অনুযায়ী সেশন ফির ২৫ শতাংশ ছাড় পান। অভিযুক্ত স্টাফ ইউনুস নতুন যোগ দিয়েছেন, তাই ভুল বোঝাবুঝি থেকে এমনটি হয়ে থাকতে পারে।’

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিআরপির একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘ম্যানেজার ‘কোর ভ্যালু মিটিং’-এর যে দাবি করছেন, তা মাত্র দুই সপ্তাহ আগে চালু হয়েছে। মূলত ফেসবুকে এক রোগীর আত্মীয় অভিযোগ তোলার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতে পারলে তড়িঘড়ি করে এসব মিটিং শুরু করা হয়।’

বাকৃবির মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলামও একই ধরনের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, স্টাফদের দুর্ব্যবহারের বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে গেলে ম্যানেজার উল্টো স্টাফদের পক্ষেই সাফাই গান এবং তাকে বসার সৌজন্যটুকুও দেখাননি। নিজের মায়ের থেরাপি চলাকালীন অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘থেরাপির সময় ধাক্কা দেওয়া, পরিবারের কাউকে ভেতরে ঢুকতে না দেওয়া এবং নিয়ম মনে রাখতে না পারলে রোগীকেই দায়ী করার মতো আচরণগুলো মানবিক নয়।’

অন্যদিকে, রাজশাহী সিআরপি থেকে শিশু থেরাপি স্থানান্তর করা এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এখানে ইন্টার্নরা শিশুদের দেখছেন এবং প্রতি তিন মাস পরপর থেরাপিস্ট পরিবর্তন হচ্ছে। এতে শিশুরা বিভ্রান্ত হয় এবং তাদের উন্নতির গতি থেমে যায়।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের অন্যান্য কেন্দ্র (রাজশাহী, সিলেট বা সাভার) তুলনায় ময়মনসিংহ সেন্টারে কোনো স্থায়ী পুরুষ অকুপেশনাল থেরাপিস্ট নেই, যা বৈষম্যমূলক।

এর জবাবে ম্যানেজার রাফিউল করিম বলেন, ‘নারী-পুরুষ উভয় ইন্টার্নই এখানে আছেন। তবে পুরুষ থেরাপিস্টরা ময়মনসিংহে স্থায়ীভাবে কাজ করতে আগ্রহী নন।’ তিন মাস অন্তর থেরাপিস্ট পরিবর্তনকে তিনি শিশুদের খাপ খাওয়ানোর জন্য ‘কার্যকর’ বলে দাবি করেন।

অভিভাবকদের আরও অভিযোগ, ১ ঘণ্টার সেশনের কথা বলা হলেও অনেক ক্ষেত্রে ২০-২৫ মিনিটেই তা শেষ করে দেওয়া হয়। এছাড়া অপ্রয়োজনে একাধিক সেবা গ্রহণে চাপ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ বিষয়ে ম্যানেজারের বক্তব্য, ‘থেরাপি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া; ছন্দপতন হলে এর ফলপ্রসূতা কমে যায়। তাই রোগের ধরন অনুযায়ী সেশন সম্পন্ন করতে বলা হয়।’

এক নারী অভিভাবক জানান, তাকে না জানিয়েই বাচ্চার থেরাপিস্ট পরিবর্তন করা হয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখলে উল্টো তাকে ‘ভুল তথ্য প্রচারের’ অভিযোগে হেয় করা হয়। এ প্রসঙ্গে ম্যানেজার বলেন, ফেসবুকে বিভ্রান্তি দূর করতেই প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

ভুক্তভোগী অভিভাবকরা অভিযোগ করছেন, ম্যানেজারের আচরণ রূঢ় এবং অভিযোগ শোনার ক্ষেত্রে তার অনীহা রয়েছে। তারা এই কেন্দ্রে স্থায়ী রেসিডেন্সিয়াল থেরাপিস্ট নিয়োগ, থেরাপিস্ট রোটেশন অন্তত ছয় মাস অন্তর করা এবং সেবার মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

প্রতিনিধি/একেবি