জেলা প্রতিনিধি
১৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:১৮ পিএম
শীতের শুরুতে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল নেমেছে। এখন ছুটির দিনগুলোয় আরও বেশি প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাচ্ছে সৈকত। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা লাখো পর্যটকে মুখরিত সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট। বিশেষ করে সুগন্ধা, লাবনী ও কলাতলী পয়েন্টে মানুষের ভিড় থাকে সবচেয়ে বেশি। ভ্রমণপিপাসু মানুষের পদচারণায় উৎসবের আমেজ পুরো সাগরতীর জুড়ে। এ অবস্থায় নিরাপত্তাও জোরদার করেছে লাইফ গার্ড ও ট্যুরিস্ট পুলিশ।
রোববার (১৬ নভেম্বর) সকাল থেকে সাগরতীর জুড়ে দেখা মিলে মানুষের ঢল। বালুচরে খেলছে শিশুরা, কেউ আবার ব্যস্ত সেলফিতে। একের পর এক ঢেউয়ের সঙ্গে আনন্দে মেতে উঠেছেন পর্যটকরা। ভেসে আসছে ঢেউয়ের গর্জন আর হাসিখুশি মানুষের কোলাহল।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোয় যেন উৎসবে মেতে উঠছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। বিশ্বের দীর্ঘতম এই সৈকতে সকাল থেকেই ভিড় জমান হাজারো মানুষ। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়াতে এসেছেন, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে উপভোগ করছেন সাগরের ঢেউ।
রাজশাহী থেকে আসা পর্যটক মনিরুল ইসলাম বলেন, এখন শীতের আবহ, চারপাশের পরিবেশ খুবই চঞ্চল এবং আনন্দের। এই সুন্দর সময়ে একবার সমুদ্রে পা না ভিজালে জীবনে অপূর্ণতা থেকে যায়। তাই সমুদ্রের নোনাজলে পা ভিজানোর জন্য কক্সবাজার ছুটে আসা।

আরেক পর্যটক নেজামত মিয়া বলেন, ‘সমুদ্র সবসময় সুন্দর। তাই যখনই ছুটি পাই পরিবারকে সময় দেওয়ার জন্য কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ছুটে আসি। দালান-কোঠার শহর ছেড়ে সমুদ্রের নোনাজলে বেশ আনন্দ করছি।‘
ঢাকা থেকে ভ্রমণে আসা পর্যটক সমির শাহা বলেন, শীত চলে এসেছে, এই সময়ে সমুদ্র শান্ত এবং পানি অনেক স্বচ্ছ থাকে। তাই এই সময়ে সমুদ্রে গোসল করলে অনেক শান্তি লাগে। এছাড়া কক্সবাজার এমন একটি স্থান যেখানে আসলে মন এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। খুব আনন্দ করছি।
এদিকে ১ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে পর্যটন মৌসুম। তাই বাড়ছে হোটেল মোটেলের বুকিংও। এতে ব্যবসায়ীদের মুখে এখন স্বস্তির হাসি।
কলাতলী বীচ পয়েন্টে আচার, ঝিনুক-শামুকের অলংকারসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান রয়েছে শহরের বাহারছড়ার বাসিন্দা আবুল কাশেমের। তিনি বলেন, গত কয়েক দিনে ভালো ব্যবসা হয়েছে। পর্যটক না এলে আমাদের কোনো রকমে ব্যবসা চলে। সে হিসেবে এবার ভালো ব্যবসা হচ্ছে, আশা করছি এই মৌসুমে ভালো বাণিজ্য হবে।
চটপটি ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, নভেম্বরের শুরুতে কক্সবাজারে পর্যটক আগমন বেড়েছে। সেই সাথে ব্যবসা-বাণিজ্যে চাঙা ভাব এসেছে।
এদিকে পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়ানো হয়েছে পর্যটন পুলিশের টহল। লাইফ গার্ডরা পর্যটকদের সাগরে নির্ধারিত সীমার বাইরে যেতে সতর্ক করছেন।

সি সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার সিনিয়র লাইফগার্ড আব্দু সালাম বলেন, বিপুলসংখ্যক পর্যটক সমুদ্রস্নান করছে। তাই তাদের নিরাপত্তায় তিনটি পয়েন্টে লাইফগার্ড কর্মীরা সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় লাইফ গার্ডের পাশাপাশি ট্যুরিস্ট পুলিশ, বিচ কর্মী ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
পর্যটন ব্যবসায়ী মুকিম খান জানান, পর্যটকের পদচারণায় জমে উঠেছে কক্সবাজার। এমন ভিড় অব্যাহত থাকলে এ খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।
হোটেল দি কক্স টুডে ব্যবস্থাপক আবু তালেব ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘পর্যটন মৌসুম শুরু হয়েছে। তাই পর্যটকের আগমনও বাড়ছে। যার কারণে বুকিং বেড়েছে। আশা করি, সামনের দিনগুলো কক্সবাজারে পর্যটকের আগমন আরও বাড়বে এবং পর্যটন ব্যবসা চাঙা হবে।’
ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতে পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের তৎপরতা অব্যাহত আছে। কোনো অপরাধীর উৎপাত সৈকত এলাকায় যাতে না হয় সে লক্ষ্যে দিন-রাত কাজ করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।’
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় সমন্বিতভাবে নিরাপত্তার বিষয়ে মনিটরিং অব্যাহত আছে।
প্রতিনিধি/জেবি