images

সারাদেশ

বিদেশ ফেরত স্ত্রীর ঘরে স্বামীর লাশ, শিশুও নেই জীবিত

জেলা প্রতিনিধি

১২ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:০৩ পিএম

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় শ্বশুরবাড়ি থেকে এক ব্যক্তি ও তার সাত বছর বয়সী মেয়ের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে নিহত ব্যক্তির স্ত্রীকে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত দুইটা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে উপজেলার ভুবনকুড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ আমিরখাঁকুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট, রক্তমাখা দা এবং একটি বিষের বোতল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বাঘবেড় খিশাকুড়ি গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে রতন মিয়া (৩০) ও তার মেয়ে নূরিয়া খাতুন (৭)। আহত স্ত্রী জুলেখা খাতুনকে (২৫) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রতন মিয়া গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। স্ত্রী জুলেখা হালুয়াঘাট উপজেলার ভুবনকুড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ আমিরখাঁকুড়া গ্রামের দুলাল মিয়ার মেয়ে। গাজীপুরে কাজ করার সময় তাদের মধ্যে পরিচয় হয় এবং ২০১৬ সালের ১১ জুলাই বিয়ে করেন তাঁরা। দাম্পত্য জীবনে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়।

দুই বছর আগে জুলেখা গৃহকর্মীর কাজে দুবাই যান। স্ত্রী বিদেশে যাওয়ার পর রতন মেয়েকে নানার বাড়িতে রেখে গাজীপুরে কাজ চালিয়ে যান। দেড় মাস আগে জুলেখা দুই মাসের ছুটিতে দেশে ফেরেন। সম্প্রতি আবার দুবাই যেতে চাইলে রতন এতে আপত্তি জানান। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ চলছিল।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রতন গাজীপুর থেকে শ্বশুরবাড়িতে যান। রাত তিনটার দিকে বাড়ি থেকে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে গিয়ে দেখেন ঘরের মেঝেতে রতনের গলাকাটা দেহ, বিছানায় মেয়ের মরদেহ, আর জুলেখা খাতুনের গলা ও হাতে গভীর জখম। স্থানীয়রা তাঁকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। বুধবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিআইডির বিশেষ ক্রাইমসিন দল।

রতনের মা জুবেদা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার পুত্তে পরশুদিন আলাপ করছিল, বউ আবার বিদেশ যাইবাগার চায়। আমি কইছিলাম, বউয়েরে আর বিদেশ দিয়ো না, বাড়িতে ঘর কইরা বউ লইয়া থাকো। বউ যাওনের দরকার নাই। বউ খালি বিদেশ যাইবাগার চায়, আমার পুত্তে দিবার চায় না। হেই জন্যই আমার পুত্তেরে মাইরা ফেলছে।’

এ ঘটনায় নিহত রতনের শ্বশুর দুলাল মিয়া ও শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। আহত নারীকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। নিহতের শ্বশুর–শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধান করছে।’

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘স্বামী–স্ত্রীর পারিবারিক কলহের জেরে রতন মিয়া স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যা করে নিজে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এমন ধারণা করা হচ্ছে। তবে রতনের গলার আঘাত দেখে মনে হচ্ছে, বিষয়টি ভিন্ন কিছু। নিজে নিজে গলা কাটলে এত গভীর ক্ষত হওয়ার কথা নয়। পুরো ঘটনা উদ্‌ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।’

চিরকুটে লেখা ছিল, ‘আমাদের মৃত্যুর জন্য দায়ী...’ এরপর পাঁচজনের নাম। তবে পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

প্রতিনিধি/একেবি