জেলা প্রতিনিধি
১৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:০৪ পিএম
নিভৃত গ্রামাঞ্চলে বিস্তীর্ণ মাঠ। উপরে নেটের ছাউনি। চারিপাশে জাল দিয়ে আবদ্ধ। ভেতরে ঢুকলে দেখা যায়- সারি সারি প্লাস্টিকের ট্রে। এর মাঝে একাধিক শয্যায় নালা করা। সবগুলো শয্যায় বসানো ট্রেতে বপন করা হয়েছে বীজ। এরপর সেখানে উঁকি দিচ্ছে নানা জাতের সবজির চারা। এখন সারিবদ্ধভাবে শোভা পাচ্ছে সবুজ রঙের চারাগুলো। তপ্ত রোদে কঠোর পরিশ্রমে বাণিজ্যিকভাবে এসব চারা উৎপাদন করছেন নেছার সরকার লুলু নামের এক উদ্যোক্তা। এ ব্যবসায় তিনি ঘুরিয়েছেন ভাগ্যের চাকা।
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের কাঠাল লক্ষীপুর মাঠে উদ্যোক্তা লুলুর নার্সারিতে পাওয়া যাচ্ছে- ব্রকলি, বিটরুট, রঙিন ফুলকপি, টমেটো, বেগুন-মরিচ, লাউ, চিচিঙ্গা, বরবটিসহ উচ্চ ফলনশীল নানা জাতের চারা।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, বাবা-মায়ের দোয়া নামের এই নার্সারিতে ভোরের সূর্য উঠার সঙ্গে সঙ্গে চারা কিনতে ভিড় করছেন কৃষকরা। স্মার্ট প্রযুক্তিতে মাটি ব্যবহার ছাড়াই প্লাস্টিকের ট্রের মধ্যে জৈবসার ব্যবহার করে বীজ বপন করা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে রোগ-বালাই আক্রমণ কম থাকায় উৎপাদন হচ্ছে গুণগত মানের চারা।
শামীম সরকারসহ স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে লুলুর নার্সারি থেকে চারা কিনে ভালো ফসল পাচ্ছেন। দূরের কৃষকেরা ফোনে অর্ডার দেন। ইতোমধ্যে কৃষকের কাছে আস্থা অর্জন করেছেন এই উদ্যোক্তা। পাশাপাশি নিজে হয়েছেন স্বাবলম্বী। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছেন অনেকের।

উদ্যোক্তা নাছের সরকার লুলু বলেন, কয়েক বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করে চারা উৎপাদনের প্রজেক্ট করেছি। এখান থেকে বছরে লাখ টাকার বেশি মুনাফা পাচ্ছি। তবে সরকারিভাবে প্রশিক্ষণসহ আর্থিক সহযোগিতা পেলে এ নার্সারিটি আর বর্ধিত করা যেতো। এতে বেশ কিছু শ্রমিকের কর্মসংস্থান তৈরি হতো।
আশ্রয় নামের বেসরকারি সংস্থার সহকারী বিনিয়োগ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, চারা উৎপাদনসহ তা বাজারজাত করে উদ্যোক্তা লুলুর আর্থিক সচ্ছলতা ফিরছে। তাকে আর লাভবান করতে আমরা বিনিয়োগ করছি।

ইদিলপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ময়নুল আলম জানান, লুলু একজন ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোক্তা। যাতে করে তিনি নিরাপদে চারা উৎপাদন করতে পারেন সেব্যাপারে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।
সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব ভট্রাচার্য্য বলেন, আমরা তাকে নজরে রেখেছি। সরকারের পক্ষ থেকে এ উদ্যোক্তাকে সহযোগিতা করা হবে।
প্রতিনিধি/ এজে