০৮ অক্টোবর ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ গোলচত্বর থেকে সরাইল-বিশ্বরোড মোড় পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার অংশে যানজট এখন নিত্যদিনের চিত্র। পুলিশ জানিয়েছে, মহাসড়কের বেহাল দশা বা দুরবস্থাই এই যানজটের মূল কারণ।
বুধবার (৮ অক্টোবর), বেহাল মহাসড়ক পরিদর্শনে এসে সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান নিজেও যানজটের কবলে পড়েন।
ঢাকা থেকে ট্রেনে করে কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে নামার পর, তিনি সড়কপথে সরাইল-বিশ্বরোড মোড়ের উদ্দেশে রওনা হন। আশুগঞ্জে পৌঁছানোর পরই উপদেষ্টা ও তাঁর গাড়িবহর যানজটে আটকা পড়ে। দুপুর পৌনে ১২টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উপদেষ্টার গাড়িবহর আশুগঞ্জের সোহাগপুরে যানজটে আটকে ছিল।
আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খাইরুল আলম জানান, সকাল সোয়া ১০টায় আশুগঞ্জের ‘হোটেল উজানভাটি’র সামনে থেকে উপদেষ্টার গাড়িবহর সরাইল-বিশ্বরোড মোড়ের উদ্দেশে রওনা হয়। কিছুদূর এগোতেই উপদেষ্টার গাড়িবহর এবং জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার সোহাগপুর এলাকায় যানজটে আটকা পড়েন। হাইওয়ে এবং থানা পুলিশ যৌথভাবে যানজট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে মহাসড়কে যান চলাচলে ধীরগতি দেখা যায়। আশুগঞ্জের সোহাগপুর থেকে সরাইলের শাহবাজপুর পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার অংশে যানজট সৃষ্টি হয়।
যানজটে আটকা পড়া বাসচালক মাহমুদ আলী ক্ষোভের সাথে বলেন, ‘গোলচত্বরে পড়ে আমাদের জীবন নষ্ট হচ্ছে।’ তিনি জানান, ‘গতকাল রাত ১১টায় ঢাকা থেকে গাড়ি ছেড়ে সকাল ১০টার দিকে সরাইল-বিশ্বরোড মোড়ে আসি। আশুগঞ্জ গোলচত্বর থেকে সরাইল-বিশ্বরোড মোড় আসতেই ৮ ঘণ্টা লেগেছে। গত কয়েক মাস ধরে এই কষ্ট করছি।’
গ্রীণলাইন পরিবহনের যাত্রী আব্দুল বাতেন বলেন, ‘গতকাল রাত ২টার দিকে সিলেটের উদ্দেশে রাজারবাগ থেকে বাসে উঠেছিলাম। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সরাইল-বিশ্বরোড মোড় পার হতে পারিনি। সারারাত গাড়িতে বসে কষ্ট করেছি। আমাদের এই ভোগান্তি-কষ্ট কেউ দেখে না। এই কষ্ট প্রতিনিয়ত করতে হচ্ছে আমাদের।’
সংস্কারকাজ এবং পুলিশের বক্তব্য
এদিকে, সড়ক পরিবহন উপদেষ্টার পরিদর্শন ঘিরে গত তিন দিন ধরে আশুগঞ্জ গোলচত্বর ও সরাইল-বিশ্বরোড মোড় এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো অস্থায়ীভাবে সংস্কার করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। মূলত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের এই ১২ কিলোমিটার অংশ আশুগঞ্জ-আখাউড়া চার লেন মহাসড়ক প্রকল্পের আওতাভুক্ত হওয়ায় নিয়মিত সংস্কার কাজ চালাতে পারেনি সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘গতকাল মধ্যরাত থেকে যানজট আরও তীব্র হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘মূলত সড়কের বেহাল অবস্থার কারণেই প্রতিনিয়ত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশ যানজট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। সড়ক পুরোপুরি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।’
প্রতিনিধি/একেবি