জেলা প্রতিনিধি
০৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:১৪ পিএম
বরিশাল বিমান বন্দর থানা পুলিশ তদন্তের নামে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক লিটন শিকদার ওরফে লিটুকে (৩২)। তখন পুলিশের কাছ থেকে লিটুকে ছিনিয়ে নিয়ে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় নিহতের বোন মুন্নি আক্তার বাদী হয়ে এয়ারপোর্ট থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
হত্যার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের কার্যক্রম দৃশ্যমান না হওয়ায় সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মামলার বাদী। আসামিরা বর্তমানে মামলার বাদীসহ নিহতের পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগও তোলা হয়।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে বরিশাল প্রেস ক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন করেন মামলার বাদী মুন্নি আক্তার। এসময় তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুন্নির ভাই সুমন সিকদার।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়- লিটুকে প্রকাশ্যে হত্যার পাশাপাশি বসতঘর ভাঙচুরসহ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে। লিটুকে বাঁচাতে গিয়ে তার ভাই-বোন ও মা শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হারিয়েছে। বর্তমানে কিছুসংখ্যক আসামি জামিনে এসে মামলার বাদীসহ নিহত লিটুর পরিবারের সদস্যদের খুন ও গুমের হুমকি দেওয়ায় নিরাপত্তার অভাবে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বসবাস করছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, এই ঘটনার তদন্ত সিআইডির সদস্যদের দিয়ে করে আইনানুযায়ী ন্যায্য বিচার করতে হবে। কারণ থানা পুলিশের ব্যর্থতা ও প্রশ্নবিদ্ধ কার্যক্রম এখনও আড়ালেই রয়ে গেছে। থানা পুলিশ আগেও আসামিদের পক্ষ হয়ে কাজ করেছে এখনও কূট কৌশলে আসামিদের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত লিটু হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতার করছেন অন্য দফতরের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আসামিদের গ্রেফতারে বিমান বন্দর থানা পুলিশের সরাসরি কোনো ভূমিকা নেই।
হত্যা মামলা দায়ের হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর্যন্ত সব আসামিরা এলাকার নিজ বসতঘরে থাকলেও থানা পুলিশ তখন তাদের গ্রেফতার করেনি। ঘটনার সময় এয়ারপোর্ট থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) একাধিকবার কল দিয়েও পুলিশের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। পুলিশ সেদিন তাদের নৈতিক দায়িত্ব পালন করলে এই ঘটনা ঘটতো না। তবে ঘটনার পর তৎকালীন ওসি জাকির হোসেন শিকদার গণমাধ্যমে বলেছিলেন, ঘটনার হত্যা ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা ছিল না। পুলিশ আইনানুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
থানার বর্তমান ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, পুলিশ ইতোমধ্যে ১১ আসামিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। এছাড়া ৫০ জন আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন। হুমকির বিষয়ে কোনো অভিযোগ পায়নি, পেয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, পারিবারিক বিরোধের জেরে চলতি বছরের ৩১ জুলাই বরিশাল নগরীর কাশিপুর ইউনিয়নের পূর্ব বিল্ববাড়ি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এরপর পহেলা আগস্ট বরিশাল এয়ারপোর্ট থানায় ৬১ জনকে নামধারী ও অজ্ঞাতনামা ১৫০/২০০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন মুন্নি।
প্রতিনিধি/এসএস