জেলা প্রতিনিধি
০৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৪:৪০ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট নির্মাণাধীন ১২ কিলোমিটার মহাসড়কে অর্ধশতাধিক মরণফাঁদের সৃষ্টি হয়েছে। গর্তগুলো এক একটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। যাত্রীরা সড়ক পাড়ি দিতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে সময় পার করছেন। এতে তাদের ভোগান্তির পাশাপাশি কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ২০১৭ সালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কটি আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত ৫১ কিলোমিটার মহাসড়ক নির্মাণের অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক) পরে প্রকল্পটির খুঁটি নাটি পরীক্ষা- নিরীক্ষা করে ২০২০ সালে ৩টি প্যাকেজ ৫১ কিলোমিটার মহাসড়কের কাজ শুরু করে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। এরপর করোনা মহামারি, পরে মহাসড়ক নির্মাণে বালু সংকট, সর্বশেষ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কয়েক দফা পিছিয়ে যায় সড়কটির নির্মাণ কাজ।

এর মধ্যে প্যাকেজ-১ এর আওতায় আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার চারলেন মহাসড়কের একপাশ নির্মাণ করতে কেটে যায় ৮ বছর। এর মধ্যে ২০২৫ সালে ৩১ জুন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়৷ পরে সড়কটি নির্মাণে নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে বর্ষাকালে সড়কটির আশুগঞ্জ ও বিশ্বরোড অংশে বড়বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। এতে মহাসড়কটিতে যান চলাচলের অানউপযোগী হয়ে উঠে। ফলে প্রায়শই থমকে থাকে যানবাহনের চাকা। এতে ভোগান্তিতে পরেন এই মহাসড়কে চলাচলরত কয়েক লাখ যাত্রী ও পরিবহন চালক। ৎ
ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের চান্দুরাগামী যাত্রী সোহাগ জানান, ঢাকা থেকে ভৈরব চলে আসি ২ ঘণ্টার মধ্যে। আর ভৈরব থেকে বিজয়নগরের রামপুর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়ক অতিক্রম করতে সময় লেগেছে ১১ ঘণ্টা। এনিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বাসচালক জসিম শেখ জানান, সিলেট থেকে বাস নিয়ে ঢাকা যাচ্ছি। মোটামুটি ঝামেলা মুক্তভাবে সিলেট থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইলের শাহবাজপুর পর্যন্ত এসেছি। এর পরই তীব্র যানজটের কবলে পড়তে হয়েছে। এই সড়কে চলাচল করতে গিয়ে বিশ্বরোডের মোড় আর আশুগঞ্জে গোল চত্বর নামটি শুনলেই আগে থেকে ভোগান্তির কথা মনে পরে গায়ে কাপনি চলে আসে। কারণ ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। নিয়মিত জ্যাম লাগার কারণ সম্পর্কে তিনি জানান, একদিকে মহাসড়কে বড় বড় গর্ত আর খানাখন্দ অন্যদিকে মহাসড়কের দুই পাশে অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড ও অবৈধ বাস স্ট্যান্ড। এসব কারণে যানজটের ভোগান্তি আরও বাড়ছে। যে যেভাবে পারে, সেভাবেই মহাসড়কের আশপাশ দখল করছে।

খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, সড়কটি নাজুক হওয়ায় দায়িত্বপালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা হিমশিম খাচ্ছেন। তিনি বলেন, কখনো গর্তের মধ্যে ট্রাকের চাকা আটকে যাচ্ছে। কখনো যানবাহন বিকল হয়ে পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এছাড়া যান বাহনের অতিরিক্ত চাপ থাকায় এই মহাসড়কে প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, একদিকে নাজুক মহাসড়ক, অন্যদিকে একটু বৃষ্টি হলে গর্ত গুলোতে পানি জমে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃস্টি হয়। পরিবহন চালক ও যাত্রীদের ভোগান্তির মাত্রা কয়েক গুন বৃদ্ধি পায়।
ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সড়কটি মেরামত করা ছাড়া বিকল্প আর কোন উপায় দেখছি না।
অপরদিকে মহাসড়কের সরাইল অংশে তদারককারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন জানান, আমরা প্রায় সময়ই সড়কটির বিভিন্ন অংশে ইট বালুফেলে সড়কটি সচল রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে সেগুলো বেশিক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে না। তবে প্রকল্পের একটু সমস্যা ছিল এই সমস্যাগুলো শেষ হয়েছে। লোকবল এবং মালামাল সবই চলে এসেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি নির্মাণে কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক সম্প্রতি সড়কটি পরিদর্শন এসে জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নাজুক সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ হবে। এতে এই সড়কের চলাচলরত যাত্রী এবং পরিবহন চালকেরা ভোগান্তি থেকে অনেকটাই মুক্তি পাবেন।
সড়ক বিভাগের তথ্যমতে এই মহাসড়কে ১২ কিলোমিটার অংশে প্রায় অর্ধশত ছোট বড় গর্ত রয়েছে। যার উপর দিয়ে দৈনিক গড়ে ২২ হাজার ছোটো-বড়ো যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। আগামী বুধবার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মাদ ফাওজুল কবির খানের নাজুক মহাসড়কটি পরিদর্শনে আসার কথা রয়েছে।
প্রতিনিধি/এজে