জেলা প্রতিনিধি
০৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৪:৫৬ পিএম
‘তিস্তাপারের কান্না, আর না আর না’ স্লোগানে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ‘তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন’। তিন ধাপের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ রোববার তিস্তা অববাহিকার পাঁচটি জেলা সদরে পদযাত্রা ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে লালমনিরহাটে রোববার সকালে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। পদযাত্রাটি মিশন মোড় থেকে শুরু হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় পৌঁছায়। সেখানে জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দারের কাছে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর চার দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন, তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক মমিনুল হক।
দাবিগুলোর মধ্যে ছিল, বৈষম্যপীড়িত তিস্তা অববাহিকার ২ কোটি মানুষের প্রাণের দাবি- তিস্তা চুক্তি এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়ন, বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে জানা যায় যে, চলতি বছরের শেষের দিকে চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত এবং ঋণচুক্তি সম্পন্ন হতে পারে বিধায় এ কাজের জন্য জরুরি প্রয়োজন আগামী একনেক সভায় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা, নির্বাচনি তফশিল ঘোষণার আগেই নিজস্ব কোষাগারের টাকা দিয়েই (২ হাজার ৪১৫ কোটি, যা প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে) ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদকালে তিস্তা মহাপরিকল্পনা কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন।
![]()
মমিনুল হক বলেন, একদিকে ভারতের এক তরফা পানি প্রত্যাহার, অন্যদিকে বন্যা-নদীভাঙন, এই দুই কারণে বাংলাদেশ অংশে নদীর তীরবর্তী মানুষদের জীবন-জীবিকা ও বসতি হুমকির মধ্যে পড়েছে। তিস্তায় প্রয়োজনের সময় পানি না পাওয়ায় উত্তরাঞ্চলের গাইবান্ধা, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার দারিদ্র্য পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। প্রতি বছরই সহায়সম্বলহীন হয়ে পড়ছে এখানকার হাজারও মানুষ। তাই আমরা চাই, অতিদ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করা হোক। আমাদের আন্দোলন অরাজনৈতিক এবং গণদাবির আন্দোলন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে।
কর্মসূচিতে তিস্তার নদীভাঙন এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা ছাড়াও কয়েক শত সাধারণ মানুষ অংশ নেয়।
উল্লেখ্য, এবারের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, আগামী ৯ অক্টোবর উত্তরাঞ্চলের পাঁচটি জেলার উপজেলা পর্যায়ে গণমিছিল ও সমাবেশ এবং আগামী ১৬ অক্টোবর তিস্তা অববাহিকার দশটি উপজেলার নদীতীরবর্তী ১১টি পয়েন্টে একযোগে মশাল প্রজ্বলন।
প্রতিনিধি/এসএস