নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৬:৩৭ পিএম
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নিলামে বিক্রি হওয়া অন্তত দেড় কোটি টাকার ফেব্রিক্সের দুটি কনটেইনার উধাও হয়ে গেছে গত ফেব্রুয়ারি মাসে।
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) বন্দরে অভিযান পরিচালনা করছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি টিম।
দুদক চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম কাস্টম্সের নিলামে ৮৫ লাখ টাকায় প্রায় ২৭ টন ফেব্রিক্স কেনেন শাহ আমানত ট্রেডিংয়ের মালিক সেলিম রেজা।
পরে তিনি শুল্ক, দাম ও বন্দরের চার্জ বাবদ আরও এক কোটি সাত লাখ টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু ২৬ ফেব্রুয়ারি ট্রাক নিয়ে ইয়ার্ডে গেলে জানানো হয় কনটেইনারটি নেই। এ পর্যন্ত কনটেইনারটির কোনো খোঁজ মেলেনি।
স¤প্রতি নিলামে বিক্রি হওয়া আরও একটি কনটেইনারের খোঁজ মিলছে না। এতে ছিল প্রায় ৪২ লাখ টাকার কাপড়। সব মিলিয়ে দেড় কোটি টাকার বেশি মূল্যের পণ্য গায়েব হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এভাবে একের পর এক উধাও হওয়া কনটেইনারের খোঁজ ও ঘটনা তদন্তে নেমেছে দুদক।
সুবেল আহমেদ আরও জানান, দুদক টিম রবিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বন্দরের ইয়ার্ড এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়েছে। ইয়ার্ডের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে ঘটনা নিয়ে নানা কথা বলে তা পর্যালোচনা করেছে। কনটেইনার দুটির খোঁজ ও ঘটনার রহস্য উদঘাটন না হওয়া পর্যন্ত দুদক টিম তদন্ত চালিয়ে যাবে।
আরও পড়ুন: খেতে চাইলেই শিশুকে অমানবিক নির্যাতন করতেন বাবা, তালা ভেঙে উদ্ধার
এ বিষয়ে শাহ আমানত ট্রেডিংয়ের মালিক সেলিম রেজা বলেন, কনটেইনার নিখোঁজের ঘটনায় আমাদের আর্থিক ক্ষতি এক কোটি টাকার বেশি। ফলে আমাদের ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। সাত মাস ধরে টাকা আটকে আছে। কাস্টমসকে বারবার চিঠি দেওয়ার পরও কোনো সমাধান হয়নি।
আরেক বিডার মো. ইয়াকুব বলেন, বাইরে হলে চুরি হওয়ার বিষয়টা মানা যেত। কিন্তু বন্দর ইয়ার্ড এলাকার কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও কনটেইনার উধাও হওয়া প্রশ্নের ব্যাপার। সবার ধারণা সর্ষের মধ্যে ভূত আছে। ভূত ধরতে না পারলে এমন ঘটনা একের পর এক ঘটতেই থাকবে।
প্রতিনিধি/ এজে