images

সারাদেশ

ভেনামী চিংড়ি বাগদার বিকল্প হতে পারে 

জেলা প্রতিনিধি

২৯ জুন ২০২২, ০৮:৩২ পিএম

আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশী চিংড়ির অবস্থান ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে। এখন চিংড়ির মোট চাহিদার ৮০ শতাংশ দখল করেছে ভেনামি জাতের চিংড়ি। ফলে ভেনামি চাষের সম্প্রসারণ দ্রুত বাড়াতে না পারলে চিংড়ি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় কমে যাবে। ক্ষতির মুখে পড়তে পারে দেশ। 

বুধবার (২৯ জুন) দুপুরে চিংড়িং উৎপাদন ও রফতানি বৃদ্ধিতে বাগদা চিংড়ির পাশাপাশি ভেনামি চিংড়ির বাণিজ্যিক চাষের আবশ্যকতা বিষয়ক এক মতবিনিমিয় সভায় এমন শঙ্কার কথা বলছেন নেতৃবৃন্দ। 

ফিশারী প্রোডাক্টস বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (এফপিবিপিসি) এবং বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএফইএ) এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। 

বিএফএফইএ সহ-সভাপতি এম এম হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম নজরুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. ফারুক আহমেদ, খুলনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মানুম রেজা, বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) সিনিয়র সহ-সভাপতি এম খলিলুল্লাহ ঝুড়ু।

বক্তারা বলেন, বাগদা চিংড়ি সেমি-ইনটেনসিভ পদ্ধতিতে কোন অবস্থাতেই হেক্টর প্রতি গড়ে ৩০০০-৪০০০ কেজি এর বেশি উৎপাদন সম্ভব নয়। কেননা প্রতি স্কয়ার মিটারে ১৫ থেকে ২৫ টির বেশি পোনা দেওয়া যায়না। সেখানে ভেনামি চিংড়ি একই পদ্ধতিতে প্রতি হেক্টরে গড়ে ১০,০০০ থেকে ২০,০০০ কেজি উৎপাদন করা সম্ভব হয়। প্রতি স্কয়ার মিটারে ৪০ থেকে ১৫০ টি ভেনামি পোনা চাষ করা যায়। ভেনামি চিংড়ির রোগ সহ্য ক্ষমতা বাগদা চিংড়ির তুলনায় অনেক বেশি। উচ্চ মূল্যের বাগদা চিংড়ির সাথে কমদামের ভেনামি চিংড়ি বাজারজাত করলে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা ও রফতানি বৃদ্ধি পাবে। 

তারা বলেন, বর্তমানে দেশের জনগণের চিংড়ির চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাগদা চিংড়ির একটি বৃহৎ অংশ স্থানীয় বাজারে চলে যাচ্ছে। বাজারে কম দামের ভেনামি চিংড়ি পেলে উচ্চ মূল্যের বাগদা চিংড়ি স্থানীয় বাজার হতে কারখানায় চলে আসবে এবং বাগদা রপ্তানিও বৃদ্ধি পাবে। চিংড়িতে যে সব রোগ হয়, তার অধিকাংশই বাগদা ও ভেনামি উভয়েই হয়। বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে ভেনামি চিংড়ির চাষ এখন পর্যন্ত আরম্ভ হয় নাই। ভেনামি হতে নতুন কোন রোগের ঝুঁকি হওয়ার তেমন কোন আশংকা নেই। কারণ রোগ বালাইয়ের সাথে বায়োসিকিউরিটি ও ব্যবস্থাপনার সম্পর্ক বিদ্যমান। ন্যুনতম সেমি ইনটেনসিভ পদ্ধতিতে ভেনামি চাষ করা হয় বলে এখানে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি চাষ ব্যবস্থাপনা বিদ্যমান থাকবে। এছাড়া ভেনামি চাষে SPF মাদার ও পোনা ব্যবহার করা হয় এবং চাষে গুড প্রাকটিস করলে রোগ বালাই নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই সহজ। ভেনামি চিংড়ি চাষ অপেক্ষাকৃত কম লবণাক্ত পানিতে করা যায় (৬ পিপিএম হতে ৩৫ পিপিএম)। ভেনামি চিংড়ি চাষটি ১০০ শতাংশ (SPF) পোনার উপর নির্ভরশীল। চাষের জন্য সমুদ্র হতে মাদার ধরতে হবে না এবং নদী হতে পোনা ধরতে হয় না। অতএব, জীববৈচিত্রের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব নেই। ভেনামি চিংড়ি উৎপাদনের পরিমাণ বেশি ও খরচ কম হওয়ায় স্থানীয় বাজারে কমদামে ভেনামি চিংড়ি সরবরাহ করে সাধারণ জনগণের আমিষের ঘাটতি পূরণ করা যাবে। সস্তামূল্যের ভেনামি চিংড়ি দিয়ে অনেক প্রকারের খাদ্য পণ্য তৈরি করা যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে যার প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

প্রতিনিধি/এইচই