images

সারাদেশ

রঙ-তুলির নিপুণ আঁচড়ে প্রতিমা রাঙাতে ব্যস্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিল্পীরা

জেলা প্রতিনিধি

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:৫৪ এএম

সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসবকে ঘিরে (শারদীয় দুর্গোৎসব) ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মন্ডপে মন্ডপে চলছে প্রতিমা স্থাপনের শেষ মুহূর্তের কাজ। রঙের আঁচড়ে দেবী দুর্গাকে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে বর্ণিল সাজে। প্রতিটি প্রতিমাকে রঙ-তুলির নিপুণ আঁচড়ে রাঙাতে ব্যস্ত শিল্পীরা। চলছে সাজ-সজ্জার কাজও। দেবী দুর্গার সঙ্গে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী আর সরস্বতী দেবীকেও। পূজা ঘনিয়ে আসায় এখন রাত দিন ব্যস্ত সময় পার করছে মৃৎশিল্পীরা। যেন দম ফেলার ফুসরত নেই মৃৎশিল্পীদের। পুরুষদের কাজে সাহায্য করছে বাড়ির নারীরাও।

এদিকে, ভক্তরা দেবী দুর্গার রাতুল চরণে পুষ্পাঞ্জলী প্রদান করার জন্যে অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। তারা বলছেন, মায়ের আগমনের ক্ষণকালে ভক্তরা সকলেই পুলকিত। ভক্তদের মনে লেগেছে আনন্দের দোলা।

1000165424

শহরের মুন্সেফপাড়ার সুমন চক্রবর্তী বলেন, মায়ের আগমন উপলক্ষ্যে আমরা সবাই বেশ খুশি। পরিবারের সকলের জন্যে কেনাকাটা করেছি। সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত মায়ের রাতুল চরণে পুস্পাঞ্জলী প্রদান করবো।

শহরের পাইকপাড়ার সজীব পাল বলেন, আমরা অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছি কখন আসবে মাহেন্দ্রক্ষণ। মায়ের রাতুল চরণে পুষ্পাঞ্জলী প্রদান করবো। এবার জগৎ জননী মায়ের কাছে দেশের জন্য দশের জন্য প্রার্থনা করবো। মা যেন সকল রোগশোক থেকে আমাদের মুক্ত রাখে।

1000165422

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পূর্বপাইক পাড়া গগণ সাহাবাড়ি রোড সার্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশিষ কুমার সাহা জানান, এ বছর মায়ের আগমনে আমরা অনেকটাই পুলকিত।

ইতোমধ্যে আমাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। মন্ডপে প্রতিমা আনা হয়েছে। সাজ শয্যার কাজ চলছে। এখন অপেক্ষা ক্ষণকাল গণনা করা। আমরা পঞ্জিকার তিথি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাড়া প্রতিবেশিসহ পূজা কমিটির সকলকে সঙ্গে নিয়ে মায়ের রাতুল চরণে পুষ্পাঞ্জলী প্রদান করবো।

1000165426

এদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ভোলাচং গ্রামের মৃৎশিল্পী বরেন পাল জানান, দুর্গাপূজার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। শেষ মুহূর্তে আমরা প্রতিমার গায়ের সাজশয্যার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছি। কেননা প্রত্যেকের হাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই প্রতিমা তুলে দিতে হবে। তারা প্রতিমা নিয়ে নিজ-নিজ এলাকায় মন্ডপে স্থাপন করবেন। সেজন্য নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছি।

একই কথা বলেন মলাই চন্দ্র পাল নামে অপর এক মৃৎশিল্পী। তিনি জানান, কাজ শেষ হতে এখনও বাকি আছে। যার কারণে অনেক ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে। তবে শেষ সময়ের আগেই কাজ সমাপ্ত করে পূজারীদের হাতে প্রতিমা তুলে দেবো। সেজন্য রাতদিন কাজ করছি। গতবার ৪০টি প্রতিমা বানিয়ে ছিলাম। এবার ৪৫টি প্রতিমা বানাব। ভক্তদের পক্ষ থেকে তাড়া আছে। তাই যত দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।

জেলা শহরের কান্দিপাড়া রঘুনাথ জিউর আখড়ার প্রতিমা শিল্পী ঝন্টু পাল বলেন, মূর্তি তৈরির উপকরণের দাম বেশি। সে অনুযায়ী প্রতিমার দাম বাড়েনি। মূর্তি তৈরির কারিগর সংকটের কারণে এ বছর ১৫টি মূর্তির অর্ডার নিয়েছি। শেষ মুহূর্তে এখন দম পেলার সময় পাচ্ছি না। কারণ সময় মত সকলের কাজ শেষ করতে হবে।

1000165469

জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সদস্য সচিব প্রবীর চৌধুরী রিপন জানান, এবার জেলার ৯টি উপজেলায় ৫৭৮টি পূজা মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এ বছর জেলার মধ্যে পৌরসভাসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় ৮০টি, নাসিরনগর উপজেলায় ১৩৯টি, সরাইল উপজেলায় ৫৩টি, কসবা উপজেলায় ৪৩টি, আখাউড়া উপজেলায় ২৪টি, আশুগঞ্জ উপজেলায় ১৫টি, বিজয়নগর উপজেলায় ৫৬টি, নবীনগর উপজেলায় ১২৭টি ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ৪২টি পূজামন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সার্বিক বিষয় নিয়ে বৈঠক হয়েছে। আমরা আশা করছি, এ বছর সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন করতে পারব। ইতোমধ্যে আমাদের প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আমরা প্রতিটি উপজেলায় যোগাযোগ রাখছি এবং প্রশাসনসহ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছি। যেন পূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পারি। আমরা পূজায় সকলে সহযোগিতা কামনা করি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম জানান, শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ করার জন্যে প্রশাসনের পাশাপাশি যৌথ বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকবে। প্রতিটা উপজেলার প্রতিটা পূজা মণ্ডব সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে।

তিনি আরও জানান, পূজাকে সফল করার লক্ষ্যে প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে বিসর্জন পর্যন্ত যতগুলো অনুষ্ঠান আছে সবকিছু সুন্দর ভাবে শেষ করার জন্য আমরা সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবো। সেই সঙ্গে পূজা উদযাপন ফ্রন্টসহ সেচ্ছায় দায়িত্ব পালনকারী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কয়ক দফা আলোচনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী দেবীদুর্গা এবার গজে (হাতি) চড়ে আগমন করবেন এবং দোলায় (পালকি) চড়ে গমন করবেন। ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২৮ সেপ্টেম্বর বোধনের মধ্য দিয়ে ষষ্ঠী পূজা পালন করে হবে। আগামী ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে হবে মূল আনুষ্ঠানিকতা।

প্রতিনিধি/টিবি