বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:৫৫ পিএম
আশ্বাসে ভরপুর, কিন্তু বাস্তবায়নে পিছিয়ে। এভাবেই কেটেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসনের দায়িত্বের এক বছর।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন প্রশাসন নিয়োগ দেয়। এর ধারাবাহিকতায় ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ চার বছরের জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে নিয়োগ পান। পরদিন দায়িত্ব গ্রহণকালে তিনি দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা-গবেষণা ও দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দেন। একই বছরের ডিসেম্বরে প্রো-ভিসি হিসেবে প্রফেসর ড. এম. এয়াকুব আলী এবং ট্রেজারার হিসেবে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম দায়িত্ব নেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসন একের পর এক নানা প্রতিশ্রুতি দেয়। এর মধ্যে ছিল— নতুন বিভাগ ও অনুষদ চালু, অনুষদভিত্তিক বেস্ট টিচার্স অ্যাওয়ার্ড, ছাত্র-শিক্ষক মূল্যায়ন সেন্টার, সেশনজট নিরসনে শিক্ষক নিয়োগ, স্মার্ট আইডি কার্ড চালু, জব কর্নার, চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স ও কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট, টিচার-স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম, জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্তি, জুলাই বিরোধীদের বিচার, ইকসু নির্বাচনসহ নানা উদ্যোগ।
এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৪৬ দফা, ছাত্রদলের ১৯ ও ১০ দফা, ছাত্রশিবিরের ১১০ দফা প্রস্তাব, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠনের দাবিও বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেয় প্রশাসন। এসব প্রতিশ্রুতি আশ্বাসের মধ্যে ছিল বলে অভিযোগ শিক্ষার্থী।
এদিকে এক বছরের ব্যবধানে বাস্তবায়ন হয়েছে অল্প কিছু উদ্যোগ। নতুন অনুষদ হিসেবে চালু হয়েছে ‘ইসলামিক ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব’, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে জব কর্নার চালু, শিক্ষার্থীদের মাঝে স্মার্ট আরএফআইডি কার্ড বিতরণ, একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন, সেশনজট নিরসনে শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, জুলাই আন্দোলনে অভিযুক্ত ১৯ শিক্ষককে শোকজ। তবে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া ইউজিসির অর্থ ছাড় না থাকায় স্থগিত রয়েছে। স্মার্ট আইডি কার্ডেও ত্রুটি থাকার অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশাসন শুধু নাম পরিবর্তন, আলোকসজ্জা, মাছ ছাড়া বা গাড়ি উদ্বোধনের মতো বাহ্যিক কাজে ব্যস্ত থেকেছে। অথচ সেশনজট নিরসন, শিক্ষক সংকট, সাজিদ হত্যার বিচার, সনদ বিতরণে ভোগান্তি, পরিবহন-আবাসন সমস্যা ও নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতের মতো মৌলিক বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের প্রত্যাহারের দাবিও উপেক্ষিত হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক এস এম সুইট গণমাধ্যমকে বলেন, প্রশাসন আমাদের আশ্বাস দিয়েছিল ৪৬ দফার বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু এক বছরেও শিক্ষক সংকট, আবাসন সংকট থেকে শুরু করে প্রায় কিছুই হয়নি। যা হয়েছে তা হতাশাজনক।
ইবি ভিসি ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা ইতোমধ্যে অনেক কাজ সম্পন্ন করেছি। আরও কিছু উদ্যোগ প্রসেসে আছে। অটোমেশন ও ডিজিটালাইজেশন সময়সাপেক্ষ বিষয়, তবে আমাদের নজর সেখানে রয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস