Dhaka Mail Logo

শিক্ষা / সারাদেশ

২ মাস পেরিয়ে গেলেও শনাক্ত হয়নি সাজিদের হত্যাকারী, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪৩ পিএম

শিক্ষার্থীদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার কথা সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল। কিন্তু ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) নিরাপত্তা ব্যবস্থার নড়বড়ে অবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি আল-কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার এ প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে। ঘটনাটির ২ মাস পেরিয়ে গেলেও হত্যাকারীদের শনাক্ত না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে নিরাপত্তার বিষয়ে নানা আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ১৭৫ একরের বিশাল ক্যাম্পাসে নেই মানসম্মত ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রাচীর। অনেক জায়গায় প্রাচীর নিচু, ভাঙা কিংবা কাঁটাতারবিহীন। ফলে স্থানীয়রা সহজেই ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। বিশেষ করে মীর মুগ্ধ সরোবর সংলগ্ন এলাকায় আবাদি জমির লোকজন নিয়মিত প্রাচীর টপকে চলাচল করে। শাহ আজিজুর রহমান হলের পকেট গেট সংলগ্ন সীমানা প্রাচীর দীর্ঘদিন ধরে ধসে পড়ে আছে পুকুরে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনকে বারবার জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, প্রাচীর ভাঙ্গা থাকার কারণে খুব সহজেই চোর প্রবেশ করতে পারে। ফলে মাঝে মাঝেই এ ক্যাম্পাসে চুরির ঘটনা ঘটে। এছাড়াও অবাধে বহিরাগতরা চলাফেরা করে যা আমাদের নিজেদের কাছে বিরক্তিকর লাগে। অনেকে উচ্চ গতিতে ক্যাম্পাসের ভেতরে মোটরসাইকেল চালায়। এতে যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় কোনো দুর্ঘটনা। এছাড়া আমাদের বন্ধু সাজিদ আব্দুল্লাহর রহস্যজনক মৃত্যুও এই নিরাপত্তাজনিত দুর্বলতার জন্যই হয়েছে। অথচ প্রশাসন এ ব্যাপারে এখনও নিরব।

এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে নেই পর্যাপ্ত সংখ্যক সিসিটিভি ক্যামেরা। অল্প সংখ্যক যা আছে তারও কিছু কিছু পড়ে রয়েছে অচলাবস্থায়। সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার ঘটনার পর ক্যাম্পাসের কিছু স্পটে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সংস্কার হলেও এখনও পুরো ক্যাম্পাস কভার করছে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। অথচ জাস্টিস ফর সাজিদ আব্দুল্লাহ আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল পুরো ক্যাম্পাস সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা। এতে করে প্রশাসনের ওপর অনাস্থা তৈরি হয়েছে শিক্ষার্থীদের মনে।

এছাড়া, পর্যাপ্ত সংখ্যক আনসার সদস্যের অভাবে ভবনগুলোর নিরাপত্তা দিতে হিমিশিম খেতে হচ্ছে নিরাপত্তা সেলকে।

নিরাপত্তা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের মোট ৯৪ জন আনসার সদস্য রয়েছে। এত অল্প সংখ্যক আনসার সদস্য দিয়ে পুরো ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের জন্য একটু কষ্টসাধ্য। ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো ব্যতীত বাকি স্থাপনাগুলোতে কেবল রাতের ডিউটি রাখা হয়েছে। তারপরও অনেক সময় তাদেরকে দিন রাত মিলিয়ে তিন শিফটে দায়িত্ব পালন করতে হয়। ইতোমধ্যে আমরা ২৫ জন আনসার সদস্যের চাহিদা ভিসি স্যারের মাধ্যমে ইউজিসিকে পাঠিয়েছি। খুব শিঘ্রই হয়তো এ বিষয়টি সমাধান হবে।

বহিরাগত প্রবেশের বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে মেগা প্রজেক্টের কাজ চলমান রয়েছে। প্রায় এক হাজারের বেশি লেবার, ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ক্যাম্পাসে অনবরত যাতায়াত করছেন। তাদের নির্দিষ্ট আইডি কার্ডের ব্যবস্থা করা থাকলে আমরা সহজের বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারতাম।

 

সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যাপারে জানতে চাইলে আইসিটি সেলের পরিচালক প্রফেসর ড. শাহজাহান আলী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসজুড়ে অনেকগুলো নতুন ক্যামেরা স্থাপন করেছি। যতগুলো ক্যামেরা লাগানো আছে তাতে মোটামুটি কভারেজ হচ্ছে। আরও কিছু স্থানে ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ইবি প্রক্টর প্রফেসর ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণ নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভিতর আনতে কাজ অব্যাহত রয়েছে। কিছু জটিলতা রয়েছে সেগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়াও সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার রহস্য উন্মোচনে সিআইডির কাজ চলমান রয়েছে।

প্রতিনিধি/টিবি