Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

প্রেম থেকে ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে পাগলা মসজিদে মায়ের চিঠি

জেলা প্রতিনিধি

৩০ আগস্ট ২০২৫, ০১:৫৫ পিএম

কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে আজ খোলা হয়েছে দানবাক্স। শত শত ভক্তের দান ও অর্ঘ্যের ভেতর থেকে উঠে এসেছে অমূল্য এক দলিল—এক মায়ের অশ্রুভেজা চিঠি।

দানবাক্স ভরতে মানুষ দেন টাকা, স্বর্ণ কিংবা বৈদেশিক মুদ্রা। কিন্তু এ চিঠিতে ভরেছে শুধু মায়ের বুকের হাহাকার, দুশ্চিন্তা আর সন্তানের জন্য অনন্ত প্রার্থনা।

চিঠির শুরুতেই মায়ের আর্তি—

‘প্রিয় পাগলা বাবা, আমি আপনার একজন ভক্ত।’

এরপর পরপরই দোয়া আর আকুতির স্রোত। ছেলেকে প্রেমের বাঁধন থেকে ফিরিয়ে আনার মিনতি, কলঙ্ক থেকে রক্ষার আকুতি, আর পরীক্ষায় ভালো ফল করার বাসনা। শুধু তাই নয়, মেয়ের ভবিষ্যতের জন্যও মায়ের আবেদন—সুষ্ঠু জীবন, ভালো পাত্র আর বিশেষ করে বিসিএসের একটি সিটের ভিক্ষা।

চিঠির ভাষা সরল, আঞ্চলিক টানে ভরপুর, কিন্তু প্রতিটি শব্দেই যেন অশেষ মমতা—

‘পাগলা বাবা গো, নতুন কইরা আর কোনো বিপদ-আপদ না দিয়া বাসার কাজটা শেষ করাইয়া দিয়া বাসায় উঠাইয়া দেন—এইটুকু দয়া করেন। আমার ছেলেটারে এই মেয়েটার থেকে মনটা পরিবর্তন কইরা দেন। আমার বাবাটারে কলঙ্কের হাত থেকে বাঁচাইয়েন। আমার মেয়েটারে স্পেশাল বিসিএসের একটা সিট ভিক্ষা নিয়েন। মেয়েটারে কষ্ট দিয়েন না, নিরাশ কইরেন না।’

thumbnail_1000071314

চিঠিটি শুধু এক মায়ের প্রার্থনা নয়, এ যেন বাংলার মায়েদের প্রতিচ্ছবি—যারা সন্তানের সুখ, নিরাপত্তা আর ভবিষ্যতের জন্য ঈশ্বরের কাছে নতজানু হয়ে প্রার্থনা করেন।

শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ৭টায় হারুয়া এলাকার পাগলা মসজিদের ১৩টি দানসিন্দুক খোলার কাজ শুরু হয়। সেখানে পাওয়া যায় রেকর্ড ৩২ বস্তা টাকা। দানগণনায় অংশ নেন প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ, যার মধ্যে ছিলেন মসজিদ কমপ্লেক্সের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় মাদরাসার ছাত্র এবং রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

 

এটাই প্রথম নয়। এর আগে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল খোলা হয়েছিল দানবাক্স, যেখানে ৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যায়। এবার নতুন করে আরও তিনটি দানবাক্স যুক্ত হওয়ায় প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এবার দানের মোট সংগ্রহ শত কোটির ঘর ছাড়িয়ে যাবে।

বর্তমানে পাগলা মসজিদের ১৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা আছে ৯০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা এফডিআর, যার লভ্যাংশ ব্যয় করা হয় গরিব, অসহায় ও অসুস্থদের জন্য।

দানবাক্স খোলার সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সেনাবাহিনী, আনসার, জামাতের জেলা আমীরসহ মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।

প্রতিনিধি/টিবি