জেলা প্রতিনিধি
২২ আগস্ট ২০২৫, ১১:০৭ এএম
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের প্রত্যন্ত পালপাড়া গ্রাম। সেখানেই বেড়ে উঠছে দুই কিশোরী মনি ও মুক্তা। জন্ম থেকেই যাদের জীবন ছিল এক দুঃস্বপ্নের মতো। তারা ছিলেন জোড়া লাগানো যমজ। শুরু থেকেই চারপাশে আতঙ্ক আর দুশ্চিন্তা ঘিরে রেখেছিল পরিবারকে। তবুও, সব কিছু অতিক্রম করে আজ তারা স্বপ্ন দেখে, হাসে, দৌড়ায়, সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যায়।
২০০৯ সালের ২২ আগস্ট দিনাজপুরের পার্বতীপুরের ল্যাম্ব হাসপাতালে জন্ম নেয় এই দুই কন্যাশিশু। জন্মের পরপরই চিকিৎসকেরা জানান, তারা গুরুতর জটিলতায় আক্রান্ত দেহের অংশ বিশেষে জোড়া লাগানো। সেই মুহূর্তে বাবা জয় প্রকাশ পাল ও মা কৃষ্ণা রানী পালের জীবনে নেমে আসে নিদারুণ শোক ও আশঙ্কা।
তাদের জীবনে আশার আলো জলে উঠে ঢাকার শিশু হাসপাতালে। ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এ আর খানের নেতৃত্বে একটি ঐতিহাসিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পৃথক করা হয় মনি ও মুক্তাকে। সেদিন চিকিৎসা বিজ্ঞানে রচিত হয় নতুন এক অধ্যায়।
বর্তমানে তারা দশম শ্রেণির ছাত্রী, পড়ছে ঝাড়বাড়ী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে। সহপাঠীদের সঙ্গে সমানতালে পড়াশোনা করছে, অংশ নিচ্ছে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে। তাদের একটাই বড় স্বপ্ন—চিকিৎসক হওয়া।
মনি বলে, ‘আমরা জানি, জন্মের পর আমাদের অবস্থা কেমন ছিল। ছবিগুলো দেখে বুঝেছি। আজ স্বাভাবিক জীবন যাপন করছি চিকিৎসকদের কারণে। তাই আমরাও চিকিৎসক হয়ে অসহায় মানুষের সেবা করতে চাই।’
মুক্তা জানায়, ‘আমরা বাংলাদেশে প্রথম সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা হয়েছি। আমাদের এই পথচলায় যারা পাশে ছিলেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই, যেন আমরা আমাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারি।’
বাবা জয় প্রকাশ পাল বলেন, ‘অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা করার পর এখন তারা সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন যাপন করছে।’

তিনি গর্বের সঙ্গে জানান, ‘আমার দুই মেয়ে পড়াশোনায় মেধাবী, ভালো ছবি আঁকে, সুন্দর নাচও করে। তাদের নিয়ে আমি সত্যিই গর্বিত। মেয়েদের স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়া। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, তাদের সেই স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতা করতে, যাতে তারা মানুষের মতো মানুষ হয়ে গড়ে উঠতে পারে।’
আজ ২২ আগস্ট, তাদের জন্মদিন। প্রতিবছরের মতো এবারও বাড়িতে কেক কেটে উদযাপন করা হবে। বন্ধু, শিক্ষক, প্রতিবেশী এবং সাংবাদিকেরা আসবেন শুভেচ্ছা জানাতে।
প্রতিনিধি/একেবি