জেলা প্রতিনিধি
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৬:৪০ পিএম
লিচুর রাজ্য হিসেবে পরিচিত দিনাজপুর। এখন সারাদেশে কম বেশি লিচু চাষ হলেও দিনাজপুরের লিচুর কদর আলাদা। রসালো ফল লিচু অনেকের কাছে ‘রসগোল্লা’ হিসেবে পরিচিত।
এ জেলার লিচু সুমিষ্ট, সুস্বাদু ও রসালো। লিচু বাগানগুলোতে ফুল আসতে শুরু করেছে। সোনালি মুকুল ছেয়ে যাচ্ছে বাগানের প্রতিটি গাছ।
বাগান মালিকরা আশা করছেন, চলতি মৌসুমে লিচুর বাম্পার ফলন হবে।
![]()
সরেজমিনে দেখা গেছে, লিচু গাছের মুকুলের সঙ্গে বাগানের চাষি ও মালিকদের যেন সোনালি স্বপ্ন উঁকি মারছে সবুজ পাতার ফাঁকে। গাছে লিচুর মুকুল আসার পর যেন ঝরে না পড়ে তাই লিচুর কুঁড়ি আসার আগে গাছের গোড়া পরিষ্কার, সেচ ও সার দিয়ে কৃষি অফিস অনুমোদিত ভিটামিন জাতীয় বিভিন্ন রকম মেডিসিন স্প্রে করে বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। লিচুর বাগানে বাড়তি শ্রম দিচ্ছেন চাষিরা। কারণ লিচু গাছে মুকুল থেকে কুঁড়ি ও ফল আসা পর্যন্ত যত্ন করলেই মিলবে বাম্পার ফলন।
কৃষি অধিদফতর জানিয়েছে, এবার জেলায় ৫ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে খানসামায় ১৪৫ হেক্টর জমিতে রয়েছে।
খানসামা উপজেলার খামারপাড়া গ্রামের লিচু বাগান মালিক ইসমাইল হোসেন বলেন, আমার লিচুর বাগানে ৪৫০ লিচু গাছ আছে। বাগানে চায়না থ্রি ও বোম্বে জাতসহ বিভিন্ন লিচুর গাছ আছে। প্রতিটি গাছে পর্যাপ্ত মুকুল আসতে শুরু করেছে। বাগানে পানি সেচ দিচ্ছি এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য স্প্রে ব্যবহার শুরু করেছি। আশা করছি গত বছরের চেয়ে এবারের লিচুর ভালো ফলন পাব।
লিচু চাষি আব্বাস বলেন, লিচুর ফুল আসা শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই পরিচর্যা দিতে শুরু করেছি। নিয়মিত স্প্রে ও সেচ দেওয়া শুরু করেছি। লিচু গাছগুলোতে ফুল আসতেই দেশের বিভিন্ন এলাকার লিচু ব্যবসায়ীরা আসতে শুরু করেছেন। তারা আগাম লিচু বাগান ক্রয় করছেন।
![]()
খানসামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার বলেন, কমবেশি প্রতিটি গাছে লিচুর মুকুল এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে, আশা করছি লিচুর ভালো ফলন হবে।
দিনাজপুর জেলা কৃষি অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. নুরুজ্জামান বলেন, এবারে জেলায় ৫ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হচ্ছে। এ ছাড়াও বসতবাড়ি, রাস্তা-ঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে লিচু গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছে প্রচুর লিচুর মুকুল এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে আছে, আশা করছি প্রতিটি গাছে লিচুর প্রচুর ফলন আসবে।
প্রতিনিধি/এসএস