জেলা প্রতিনিধি
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:১৬ পিএম
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়াতে লঞ্চ ঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিতে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে তমরদ্দি লঞ্চঘাটে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুলিশ, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহতদের মধ্যে লায়লা বেগম, কামরুল ইসলাম, আকলিমা বেগম, নাফিসা বেগমসহ প্রায় দশজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা লায়লা বেগমকে জরুরি বিভাগের ডাক্তার জেলা সদরে পাঠিয়ে চিকিৎসা প্রদান করেন।
জানা যায়, তমরদ্দি লঞ্চঘাটের ইজারাদার ছিলেন গোলাম মাওলা কাজল। ৫ আগস্টের পর উপজেলা বিএনপি নেতা আলমগীর তার নেতৃত্বে তমরদ্দি ঘাটের সকল কর্মকাণ্ড দখল করে নেন। পরবর্তীতে ইজারাদার গোলাম মাওলা কাজল এবং বিএনপি নেতা আলমগীর একটি সমঝোতায় আসেন। তারপর থেকে আলমগীর ঘাটের দায়িত্ব এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। তবে তমরুদ্দি ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি তানভীর হায়দার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি এবং দীর্ঘদিন ধরে ঘাটটি দখল করার চেষ্টা করে আসছিলেন।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে তানভীর হায়দারের অনুসারীরা ঘাটের দখল নিতে দলবল নিয়ে ঘাটে পৌঁছান। এ সময় তানভীরের লোকদের ধাওয়া করেন আলমগীরের অনুসারীরা, ফলে উভয় গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বেধে যায়। ঘাটের পাশে থাকা শ্রমিকদের পরিবারের নারী-পুরুষ সকলে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংবাদ পেয়ে উপজেলা সদর থেকে পুলিশ, নৌবাহিনী ও তমরদ্দি কোস্টগার্ড লঞ্চঘাটে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিষয়টি সম্পর্কে বিএনপি নেতা আলমগীর জানিয়েছেন, "ঘাটের সঙ্গে আমার কোন সম্পর্ক নেই। তবে তিনি জানান, প্রতিদিন ঘাট থেকে উপার্জনের ৪২ শতাংশ টাকা ইজারাদার গোলাম মাওলা কাজল নিয়ে যান।"
যোগাযোগ করা হলে, তানভীর হায়দার কোনো মন্তব্য করেননি এবং ফোনের লাইন কেটে দেন। তবে এর আগে তিনি কিছু গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, "আলমগীরের নানা অপকর্মের কারণে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘাটটি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে সমঝোতা করে ভোগ দখল করছে।" ঘাট দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কিছু বলেননি।
হাতিয়া থানা পরিদর্শক (তদন্ত) খোরশেদ আলম জানান, তমরদ্দি ঘাট নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দুজন আহত হয়েছেন বলে শোনা গেছে। পুলিশ, কোস্টগার্ড এবং নৌবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
প্রতিনিধি/একেবি