Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

শূন্য থেকে কোটিপতি আমুর সহকারী কালাম 

জেলা প্রতিনিধি

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১১:২৫ এএম

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ঝালকাঠি -২ আসনের এমপি আমির হোসেন আমুর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে ২০১৪ সালে দায়িত্ব পান আবুল কালাম আজাদ। তিনি ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের মৃত হারুন তালুকদারের ছেলে। আজাদ এই দায়িত্ব পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন আলাদীনের চেরাগ পেয়ে যান। নিমিষেই চেরাগের ছত্রছায়ায় থেকে বদলাতে শুরু করেন তার ভাগ্য। শূন্য থেকে এই মানুষটি গত ১১ বছরে হয়ে যান কোটিপতি। রাজাপুরের সব মানুষের কাছে তিনি আমুর ছেলে নামে পরিচিতি পান।

এখানেই শেষ নয়, নিজ ক্ষমতাবলে টাকা দিয়ে এলাকায় গড়ে তুলেছিলেন সন্ত্রাসী বাহিনী। আর এসব কিছু করতেন সাবেক এমপি আমুর  ছায়াতলে থেকে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আবুল কালাম আজাদের পিতা মৃত হারুন তালুকদার জারি গান গাইতো। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে আবুল কালাম আজাদ তৃতীয়। এর আগে কালাম বাড়িতে থাকতো এবং কিছুই করতেন না। আলমগীর নামে একজনের মাধ্যমে আমুর সহকারী হন তিনি। এরপর থেকে তাকে পিছনে তাকাতে হয়নি। রাজাপুরের সব ঠিকাদারি কাজ হতো তার আঙুলের ইশারায়। আওয়ামী লীগের সাবেক এমপির অত্যন্ত আস্থাভাজন লোক হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কামিয়েছে কোটি কোটি টাকা। নামে-বেনামে গড়েছেন বিপুল সম্পদ। এমনকি ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য, ভোট বাণিজ্য, সিন্ডিকেট বাণিজ্যসহ নানা অপকর্মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

গালুয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য চান মিয়া বলেন, ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে আমার বাড়িতে হামলা চালিয়েছেন আজাদ। টাকার বিনিময়ে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নির্বাচনে জয়লাভ করিয়েছেন। আমার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। এমন কিছু নাই যে তিনি তা করেননি। যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ হলে টাকার বিনিময়ে তিনি তার পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতেন।

রাজাপুর  থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, আবুল কালাম রাজাপুর থানায় একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি । তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

প্রতিনিধি/ এমইউ