জেলা প্রতিনিধি
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৯:৪৪ এএম
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ।
রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটির রায় হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটির যুক্তিতর্ক শেষ করে বিচারক মো. মাহমুদুল হাসান রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
ফারুক হত্যা মামলায় আলোচিত খান পরিবারের সাবেক এমপিসহ চার সন্তান আসামি। তাদের সাজা না হলে আবার দলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের সাজা হলে আওয়ামী লীগের রাজনীতির গতিপথ অনেকটা বদলে যেতে পারে।
২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদের লাশ নিজ বাসা টাঙ্গাইল পৌর শহরের কলেজপাড়া থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর ফারুক আহমদের স্ত্রী নাহার আহমদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। পরে মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব পায়।
ডিবি পুলিশ সন্দেহভাজন আনিসুল এবং মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। আদালতে দুইজনের চাঞ্চল্যকর জবানবন্দিতে খান পরিবারের চার ভাইয়ের নাম উঠে আসে। ওই মামলার ১৪ জন আসামির মধ্যে খান পরিবারের বড় ছেলে আমানুর রহমান খান রানা, তার ছোট ভাই সহিদুর রহমান খান মুক্তি, জাহিদুর রহমান কাকন ও অপর ছোট ভাই সানিয়াত খান বাপ্পা আসামি হন।
তাদের মধ্যে আমানুর রহমান খান রানা ২০১২ সালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল-৩ আসনের উপ-নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার ছোট ভাই সহিদুর রহমান খান মুক্তি ২০১১ সালে টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। আরেক ভাই জাহিদুর রহমান খান কাকন ব্যবসায়ী নেতা। ছোট ভাই সানিয়াত খান বাপ্পা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকাদ্দেস বলেন, খান পরিবারের সন্তানদের মামলায় সাজা হলে তাদের রাজনীতিতে আর কোনো প্রভাব থাকবে না। আর তাদের প্রভাব না থাকলে টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের রাজনীতি ডালপালা মেলতে পারবে না।
নিহত ফারুক আহমদের ছেলে মজিদ আহমদ সুমন বলেন, মামলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আসামিরা আদালতকে প্রভাবিত করার চেষ্টায় মরিয়া হয়ে পড়েছে। তারা যেকোনো মূল্যে মামলা থেকে খালাস পেতে চায়।
তিনি আরও বলেন, এ মামলায় আদালতে অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে আসামিরা বিচার প্রক্রিয়ায় নানাভাবে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আইন সঠিক পথে চললে তিনি আশা করেন আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে।
ফারুক হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌশলী মো. সাইদুর রহমান জানান, যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে ২৭ জন সাক্ষীর জবানবন্দী, জেরা ও কয়েকজন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আদালতকে শোনানো হয়েছে।
প্রতিনিধি/এমআর