জেলা প্রতিনিধি
২৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ০২:১৬ পিএম
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন থেকে চোখে চোখ রাখা। অতঃপর ভালোলাগা। সেই ভালোলাগা থেকে ভালোবাসা। বিপ্লবী জুলাই পার করে আগস্টের দ্বিতীয় বিজয়ের পরে মনে প্রাণে চলছিল দু’জনের মধ্যে মধুর প্রেম। সব জল্পনা কল্পনা শেষে দুই সাহসী যোদ্ধা বসেছেন বিয়ের পিঁড়িতে। এমন ভালোবাসার পূর্ণতা পেয়ে মুগ্ধ হয়েছেন তারা।

শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) আসর নামাজ বাদ দারুল উলুম নেছারিয়া কামিল মাদরাসা মসজিদে শহরা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতে বিপ্লবী দুই যোদ্ধার বাসায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ফুল, স্নিগ্ধতা এবং গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান। তবে সেই আয়োজনটা দু’জনের বাসায়ই অনেকটা ঘরোয়া পরিবেশেই অনুষ্ঠিত হয়েছে।
![]()
এই দুই দম্পতি হলেন, বরগুনা পৌরসভার বাসিন্দা মীর রিজন মাহমুদ নিলয় (২২) এবং বরগুনা পৌরসভার কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা ফৌজিয়া তাসনীন আনিকা (২০)।
দুই সাহসী যোদ্ধার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মীর রিজন মাহমুদ নিলয় আনোয়ার খান মর্ডান ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ ৬ সেমিস্টারে অধ্যায়নরত। ফৌজিয়া তাসনীন আনিকা সরকারি ব্রজমহন কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী। আন্দোলনের শুরু থেকেই সারাদেশের ন্যায় বরগুনায়ও মীর নিলয়ের সমন্বয় ও নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু করেন। এসময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সব শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আনিকাও আন্দোলনে যুক্ত হয়। এরপর থেকে চোখে চোখ রেখে ভালোলাগার উদয়ন।
![]()
এদিকে আন্দোলন তো চলছে। আন্দোলন কর্মসূচির মধ্যেই ৫ আগস্ট আনিকাকে নিলয়ের মনে প্রাণে পছন্দ হয়। আন্দোলনের প্রোগ্রামে আনিকাকে পেয়ে নেতৃত্বের জায়গাটি আরও বেগবান হয়ে ওঠে। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালানোর পর ৭ আগস্ট থেকে আমাদের প্রেম কন্টিনিউ চলতে থাকে। আমাদের এই ভালোবাসা সাগর পরিমাণ মায়ায় পরিণত হয়। এক পর্যায়ে ২৫ আগস্ট দু’জনের পরিবারের মধ্যে জানানো হয়। তারা আমাদের ভালোবাসা মেনে নিয়ে অনেক দিন পরে দুই পরিবারের সম্মতিক্রমে আজকের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করেন আমাদের।

ফৌজিয়া তাসনীন আনিকা বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের পরিচয় হয়েছিল। এবং আমরা দু’জন দু’জনকে পেয়ে সত্যি খুব খুশি আলহামদুলিল্লাহ। এই পূর্ণতার মাধ্যমে এটাই প্রমাণ পেয়েছি যে নিলয় কথা দিয়ে কথা রেখেছেন।

মীর রিজন মাহমুদ নিলয় বলেন, আলহামদুলিল্লাহ এই প্রেম জীবনে এসেছিল বলেই আজ আমি সত্যি আনন্দিত। এই পূর্ণতা আমাদের ভালোবাসার, সততার এবং পবিত্রতার প্রমাণ।
প্রতিনিধি/এসএস