images

সারাদেশ

কুমিল্লার প্রাচীন স্থাপনা দারোগাবাড়ি মসজিদ মাজার

জেলা প্রতিনিধি

২২ নভেম্বর ২০২৪, ০৯:৫৬ এএম

কুমিল্লার যতগুলো প্রাচীন স্থাপনা আছে তার মধ্যে দারোগাবাড়ি মসজিদ মাজার অতি পরিচিত একটি ধর্মীয় তীর্থস্থান। এ মসজিদ ও মাজারে প্রতিদিনই ছুটে যান অগণিত ধর্মপ্রাণ মানুষ। 

১৭৮৯ সালে (১২১১ হি.) রিয়াজ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীকে তার প্রতিষ্ঠিত দারোগা বাড়ি মসজিদ সংলগ্ন স্থানে সমাহিত করা হয়। কবর দেওয়ার কিছু দিন পর রাজমিস্ত্রি সেটিকে পাকা করার সময় কবরের একটি কোণের মাটি ভেঙে যায়।  তখন দেখা যায় যে কবরে কোনো লাশ নেই। এমনকি কোনো হাড়ও নেই। কিন্তু, কবর থেকে তীব্র সুগন্ধ বের হচ্ছে।

আরও পড়ুন: মডেল মসজিদ উদ্বোধনের ১৬ মাসেও চালু হয়নি নামাজ 

দুইশ বছরের প্রাচীন এ মসজিদটি তিন গম্বুজ বিশিষ্ট। চারপাশে রয়েছে ১২টি মিনার। দেয়ালের পুরুত্ব তিন ফুটের বেশি। মসজিদটির সঙ্গে রয়েছে শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরী (রা.)-এর মাজার। এখানে প্রতি শুক্রবারসহ বিশেষ দিবসে মুসল্লিদের ঢল নামে। বিশেষ করে শবে-বরাতের সময় মসজিদের আঙিনা ও সংলগ্ন পুকুরের তিন পাড়ে পা ফেলার জায়গা থাকে না। ধারণা করা হয় যে ১২১১ হিজরিতে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন রিয়াজউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।

সরেজমিনে দেখা যায়, কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জের পাশে ইউসুফ স্কুল। স্কুলের পাশ ঘেঁষে যাওয়া রাস্তা ধরে এগিয়ে গেলে দারোগা বাড়ি এলাকা। সেখানে রয়েছে মাঝারি আকারের একটি পুকুর। পুকুরের পশ্চিম পাড়ে মসজিদ ও মাজার। পুকুরের ঘাটলায় রয়েছে অজুর ব্যবস্থা। মসজিদের পাশে রয়েছে মাজার। শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরী (রা.) ভারতের কানপুরের বাসিন্দা। কুমিল্লা হয়ে মিয়ানমার যাওয়ার পথে এখানে বিশ্রাম নিতেন। এক সময় শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরী (রা.) ইসলাম প্রচারের জন্য এখানে থেকে যান। মৃত্যুর পর এখানে তাকে সেখানে দাফন করা হয়। মসজিদের দানবাক্সে মানুষ প্রতি মাসে লাখ টাকা দান করে, যা তদারকি করছে জেলা প্রশাসন।

আরও পড়ুন: কচুরি ফুলে রঙিন খাল-বিল

মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা ইয়াছিন নুরী বলেন, এখানে মাঘ মাসের প্রথম জুমাবার ওরস হয়। এ মসজিদ দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন। দুই হাজার মুসল্লি এখানে একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন। বিভিন্ন দিবসে এখানে হাজার-হাজার মানুষ আসে। মসজিদে মুসল্লিদের জায়গা হয় না। মসজিদটি সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, ‘মসজিদটি সম্প্রসারণের জন্য আমরা কমিটি করেছি। ওপরের দিকে, নাকি পাশে সম্প্রসারণ করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এসব বিষয়ে সিদ্ধান্তের পর আমরা পদক্ষেপ নিবো।

প্রতিনিধি/ এমইউ