images

সারাদেশ

বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে পানির সংকট, দুর্ভোগে রোগীরা

জেলা প্রতিনিধি

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৯:২৯ পিএম

শতাধিক বছরের পুরানো বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের নাজুক ব্যবস্থাপনার কারণে পানির সংকটে দুর্ভোগে পরেছে প্রায় দেড়শ রোগী। হাসপাতালের পানির কূপ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নিরাপদ পানি মিলছে না। তাই হাসপাতালের বাইরে থেকে পানি সংগ্রহ করে চাহিদা মেটাচ্ছেন রোগীরা। এ সমস্যা দূর করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিকল্প ব্যবস্থা করলেও তাতে পুরোপুরি সংকট কাটেনি। ফলে দুর্ভোগে রয়েছেন রোগী, চিকিৎসক-কর্মচারীরা। অবিলম্বে স্থায়ীভাবে এ সংকট দূর করার দাবি সচেতন মহলের।

১৯১২ সালে ২০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে একশ’ শয্যায় উন্নিত করা হয় এ হাসপাতাল। বর্তমানে বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল প্রতিদিন গড়ে একশ থেকে দেড়শ রোগী চিকিৎসাধীন থাকে। সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে পুরানো গভীর কূপ থেকে পানির সঙ্গে বালু চলে আসছে। এতে পানি উত্তোলনের যন্ত্র বিকলসহ পানি অনিরাপদ হয়ে গেছে। এরপর স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুরানো সংযোগটি বাতিল ঘোষণা করে। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিকল্প পন্থায় পানির ব্যবস্থা করলেও তাতে চাহিদা মিটছে না। ফলে পানি সংকটে দুর্ভোগে দিন কাটছে রোগীদের।

হাসপাতালের পানি সরবরাহ বিভাগের কর্মী মেহেদী বলেন, গভীর কূপ থেকে পানির সঙ্গে বালু চলে আসায় পানি ব্যবহার করা হচ্ছে না। এখন আরেকটি লাইন দিয়ে অস্থায়ীভাবে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। আগের লাইনটি পুরোনো হওয়ায় এ সমস্যা হয়েছে।

একাধিক রোগী বলেন, পানি সংকটের কারণে দুর্ভোগে আছি। হাসপাতালে চাহিদা মত পানি না পাওয়ায় বাইরে থেকে সংগ্রহ জরুরী কাজ করছি। এ সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তির দাবি জানান তারা।

বরিশাল সচেতন নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, পুরানো স্থাপনা হওয়ার দরুণ এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই সমস্যা থেকে তাৎক্ষণিক রক্ষা পেতে আগে থেকেই সচেতন থাকা উচিত ছিলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। রোগীদের দুর্ভোগ থেকে স্থায়ী মুক্তি দিতে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, কূপ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ঘোলা পানি উঠছিলো। তাই স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কূপটিকে বাতিল ঘোষণা করেছে। বিকল্পভাবে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে মোটামুটি সংকট কেটেছে। পানি সংকট সমাধানে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আরেকটি গভীর নলকূপ বসানোর আবেদন করা হয়েছে।

প্রতিনিধি/এজে