১৫ জুন ২০২৪, ০৭:৩৭ পিএম
সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলে জেলেদের উপার্জনের একমাত্র উৎস্য সুন্দরবন। ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন জেলার উপকূলীয় অঞ্চল আশাশুনি ও শ্যামনগরের জেলেরা। মাছ ধরাতে নিষেধাজ্ঞা থাকায় আয়ের আর কোনো উপায়ও নেই। সরকারি খাদ্য সহায়তার আওতায়ও নেই অনেক জেলে। চোখে-মুখে এখন শুধু হতাশার ছাপ।
আসন্ন ঈদে ছেলে-মেয়েদের নতুন কাপড় দেয়া তো দূরের কথা দু’মুঠো খাবার জোগাড় করার চিন্তাতেই দিন পার করছেন রেমালে ক্ষতিগ্রস্ত সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকার জেলেরা। নেই সরকারের খাদ্য সহায়তা, সব কিছু হারিয়ে এখন নিঃস্ব তারা।
মৎস্য বিভাগের দেওয়া তথ্যমতে, শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলাসহ জেলায় সুন্দরবনগামী ৫০ হাজার ৩৯৬ জন জেলে আছেন। তবে অনিবন্ধিত জেলের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে স্থানীয় জেলেদের দাবি।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, সমুদ্রগামী নিবন্ধিত ১২ হাজার ৮৭৯ জন জেলে পরিবারকে প্রতি মাসে ৪০ কেজি চাল খাদ্য সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়। আর সুন্দরবনগামী জেলেদের কীভাবে খাদ্য সহায়তার আওতায় আনা যায়, সেজন্য মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে।
আশাশুনি উপজেলার চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম বলেন, সরকারি খাদ্য সহায়তা প্রদানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে প্রকৃত জেলেদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। যাতে করে কোনো জেলে সরকারি খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন।
এর আগে, গত ১ জুন সুন্দরবনের নদী, খালে মাছ এবং বনে প্রাণীদের বিচরণ ও প্রজনন কার্যক্রমের সুরক্ষায় তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা দেয় বন বিভাগ। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বনজীবী, সাধারণ জনগণ ও পর্যটক সুন্দরবনে ঢুকতে পারবেন না।
অপরদিকে, গত ২৬ মে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে কম বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাতক্ষীরার ৪৩টি ইউনিয়ন। এর মধ্যে উপকূলীয় এলাকা কৈখালী, গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী, পদ্মপুকুর, প্রতাপনগর, নূরনগর ও রমজাননগরসহ কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রেমালের আঘাতে জেলায় এক হাজার ৪শ ৬৮টি বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়। এখনো ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবার তাদের ক্ষত কাটিয়ে উঠতে পারেনি। বিধ্বস্ত বাড়িঘর মেরামতে ব্যস্ত রয়েছেন তারা।
কৈখালী এলাকার আব্দুস সামাদ ও বুড়িগোয়ালিনীর নিতাই মণ্ডলসহ কয়েকজন জানান, রেমালের আঘাতে আমাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার কারণে আমাদের মাঝে কোনো ঈদ আনন্দ নেই। আমরা এখন ঘর মেরামতের কাজে ব্যস্ত। এমনকি আমাদের রান্নার ঘরও ভেঙে গেছে। এখন আমরা রান্নাও করতে পারছি না।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আতাউল হক দোলন বলেন, রেমালে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে বেসরকারি এনজিওদের মাধ্যমে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। সরকারি সহযোগিতা আসলে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করা হবে।
সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, যদি কোনো জেলে খাদ্য সহায়তার জন্য বাদ পড়ে তা খোঁজ নিয়ে তাদেরকেও এর আওতায় আনা হবে। সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।
প্রতিনিধি/একেবি