images

সারাদেশ

পঞ্চগড়ে জমে উঠেছে শেষ মুহূর্তের হাট, চাহিদা ছোট-মাঝারি গরুর

জেলা প্রতিনিধি

১৫ জুন ২০২৪, ০৯:৫১ এএম

দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের সবচেয়ে বড় হাট শালবাহানে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর বেচাকেনা। ক্রেতা-বিক্রেতায় ভরে গেছে জেলার সবচেয়ে বড় নতুন হাট। হাটের বিভিন্ন অলি-গলিতে বিক্রির জন্য গরু-ছাগল রাখা হয়েছে। তবে এবার কোরবানির পশু বেচাকেনা আমদানির তুলনায় কম। হাটে ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি। তবে খামারিদের অভিযোগ গরুর কাঙ্ক্ষিত দাম মিলছে না।

সরেজমিনে হাট ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা গরু কিনতে আসছেন। খামারিরা গরুবাহী ট্রাক ও ভটভটি নিয়ে হাটে প্রবেশ করছেন। হাটের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে দলে দলে মানুষ হাটে প্রবেশ করছে। হাটে এবার আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। ক্রেতারা বলেন, এবার খামারিরা গরুর দাম অনেক বেশি চাচ্ছেন। বিশেষ করে ছোট গরুর দাম অনেক বেশি।

তবে চাহিদা অনুযায়ী গরুর কাঙ্খিত দাম না পাওয়ার দাবি খামারিদের। তারা বলেন, এবছর গরুর খাবার, ওষুধসহ অন্যান্য আনুসাঙ্গিক খরচ বেড়েছে। এতে বেড়েছে উৎপাদন ব্যয়। তবে সে অনুযায়ী মিলছে না পশুর দাম।

thumbnail_IMG_20240624_16022557

এবার গরুর হাটে ভারতীয় গরু না থাকায় দেশি গরুর চাহিদা ও দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে গো-খাদ্যের দাম বাড়ার তুলনায় গরুর তেমর দাম পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ বিক্রেতাদের। আর ক্রেতারা বলছেন, এবারও গরুর দাম বেশি।

আরও পড়ুন

এবার বড় গরু দুচিন্তায় ফেলেছে ব্যাপারীদের

স্থানীয়রা জানান, শুধু উপজেলার আশপাশে নয়, পঞ্চগড় সদর, বোদা, ভজনপুর, তেঁতুলিয়া সদর থেকে বিক্রির জন্য এ হাটে গরু আসে। রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের জেলার পাইকাররা ট্রাক নিয়ে আসেন গরু কিনতে। এখানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের গরু ওঠে। এবার ৫০ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দামের গরু কেনাবেচা হচ্ছে।

thumbnail_IMG_20240624_16031253

শালবাহান হাটের গরু ব্যবসায়ী কবির হোসেন বলেন, ক্রেতাদের চাহিদা মাঝারি গরু। এ হাটে ৫০-৯০ হাজার টাকার মধ্যে গরু কেনাবেচা হচ্ছে। এ অঞ্চলের মানুষের অভাব যাচ্ছে। আগে আমরা ২ লাখ থেকে ৪ লাখ পর্যন্ত গরু বিক্রি করতাম কোরবানির সময়ে। এখন লাখ টাকার ওপরে ক্রেতা সেরকম পাওয়া যায় না। অর্থ মন্দা যাওয়ায় এলাকার মানুষেরা মাঝারি সাইজের গরুই কিনছেন।

ক্রেতারা বলছেন, কোরবানির পশুর দাম বেশি হাঁকা হচ্ছে। যে গরুর দাম ৫০ হাজার টাকা সেই গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে ৯০-৯৫ হাজার টাকা।

আরও পড়ুন

কসাই গরুর চেয়ে কোরবানির গরুর দাম বেশি কেন?

গরু কিনতে আসা আনোয়ারুল হক জানান, ৮৭ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনলাম। দাম কিছুটা বেশি মনে হয়েছে। হাটে প্রচুর গরু উঠলেও দালালদের কারণে দাম বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে।

সোয়াইব আলী নামে একজন ক্রেতা বলেন, ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে কোরবানির জন্য গরু কিনলাম। অর্থনৈতিক মন্দা থাকায় তিনজনে ভাগে গরুটা কিনলাম।

thumbnail_IMG20240624122228

কামাল হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, ১২ হাজার টাকা দিয়ে খাসি কিনলাম। প্রচুর ছাগল উঠেছে হাটে। খাদ্য ও ওষুধের দামের পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির কারণে গত বছরের তুলনায় এবার পশুর দাম একটু বেশি চাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

শাহজাহান আলী ও আতাউর রহমান জানান, কোরবানি ঈদের সময়ে হাটটা বড় কোনো খোলা মাঠে স্থানান্তর করলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভোগান্তিতে পড়তে হতো না। জায়গা ছোট, গরু কিনতে এসেছিলাম। হাটে এতো পরিমাণ পশু উঠেছে যে, পা ফেলার মতো অবস্থা ছিল না। আমরা মনে করি, হাট ব্যবস্থাপনার চরম গাফিলতি রয়েছে।

শালবাহান হাটের ইজারাদার রফিকুল ইসলাম বলেন, শেষ মুহূর্তে হাটে প্রচুর পশু উঠেছে। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত রয়েছে। জাল টাকা শনাক্তের জন্য ব্যাংক ও ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম বসানো হয়েছে। কোনো সমস্যা হচ্ছে না, ক্রেতা- বিক্রেতারা পশু বেচাকেনা করছেন। কোনো অব্যবস্থাপনা নেই। কারও সমস্যা হচ্ছে এ রকম কোনো অভিযোগ কেউ করেননি।

thumbnail_IMG20240624122214

পঞ্চগড় জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বাবুল হোসেন বলেন, জেলায় এবার কোরবানির চাহিদার চেয়ে গবাদিপশু বেশি প্রস্তুত রয়েছে। জেলায় ১৪ হাজার ৮০৯টি পশুর খামার রয়েছে। জেলায় এ বছর কোরবানির জন্য গবাদিপশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৭৮টি। এর বিপরীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার ৩৭১টি গবাদিপশু। এরমধ্যে গরু ৪০ হাজার ৮৩০টি, মহিষ ৪৬টি, ছাগল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩০১ এবং ভেড়া ১০ হাজার ৯৯০টি। উদ্বৃত্ত পশুর সংখ্যা ৪৫ হাজার ১৯৪টি। ইদের এসময়ে হাটগুলোতে সুস্থ-সবল পশু বেচাকেনায় সহযোগিতার জন্য মেডিকেল টিম কাজ করছে।

প্রতিনিধি/এসএস