জেলা প্রতিনিধি
২৫ মার্চ ২০২৪, ০৩:৩৪ পিএম
রাজবাড়ী সদর উপজেলার মুলঘর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে তিন ফসলি জমিতে ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি কেটে পুকুর খনন করা হচ্ছে। এতে আশপাশের ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী জমি মালিকরা।
পুকুর খনন বন্ধের দাবিতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন পাশের জমির মালিক জালাল সিকদার।
সরেজমিনে গেলে ভুক্তভোগী এক কৃষক জালাল সিকদার বলেন, গোপালপুর মৌজার বিএস ৫১৪ নম্বর দাগে একই গ্রামের ইউনুস আলী সরদারের ৩০ শতাংশ তিন ফসলি জমি রয়েছে। ওই দাগে আমারও চার শতাংশ জমি রয়েছে। এছাড়া পাশের দাগে আমার আরও ৩৪ শতাংশ জমিতে বাড়ি রয়েছে। এক সপ্তাহ আগে ইউনুস আলী সরদার তার জমিতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে মাটি কেটে পুকুর খনন শুরু করে। আমরা আশপাশের জমির মালিকরা বাধা দিতে গেলে তারা আমাদের ভয়ভীতি দেখায় এবং হুমকি দেয়। এখানে পুকুর খনন করা হলে আমার বাড়িঘর সব ভেঙে পুকুরে বিলীন হয়ে যাবে। যে কারণে পুকুর খনন বন্ধের দাবিতে ভুক্তভোগীদের পক্ষে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন করেছি।

পাশের জমির আরেক মালিক কৃষক মুক্তার সরদার বলেন, যেখানে ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে পুকুর খনন করা হচ্ছে, তার পাশের দাগেই আমার পাঁচ বিঘা তিন ফসলি জমি রয়েছে। এই জমিতে ধান, পাট, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করি। এখানে পুকুর খনন করা হলে আমার জমি ভেঙে যাবে। আমি পুকুর খনন বন্ধের দাবি জানাই।
সুজন মাহমুদ নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, ইউনুস আলীর জমির ঠিক পাশেই আমার বাঁশঝাড় রয়েছে। এখানে পুকুর খনন করা হলে আমার বাঁশঝাড় পুকুরে বিলীন হয়ে যাবে। ইউনুসের এক ভাই পুলিশে ও এক ভাই সেনাবাহিনীতে চাকরি করে। ভাইদের দাপটে সে কোনকিছুর তোয়াক্কা না করে পুকুর খনন করছে। আমরা বাধা দিতে গেলে আমাদের পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়। প্রশাসনের কাছে আমার দাবি, এখানে পুকুর খনন বন্ধ করা হোক।
এ বিষয়ে ইউনুস আলী সরদার বলেন, আমি এখানে কোনো পুকুর খনন করছি না। আমি একটি বাড়ি নির্মাণ করছি। বাড়ির জন্য কিছু মাটির প্রয়োজন। তাই নিজের জমি থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি কেটে বাড়ি নির্মাণের কাজে লাগাচ্ছি।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল আলম জানান, তিন ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে পুকুর খনন করার কোনো সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে আমি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
প্রতিনিধি/এসএস