images

সারাদেশ

রংপুরে আগাম বোরো ধান কাটার উৎসব

জেলা প্রতিনিধি

০৯ মে ২০২২, ০৩:৩২ পিএম

রংপুরে পুরোদমে চলছে বোরো ধান কাটার উৎসব। জেলার বিভিন্ন উপজেলার কিছু কিছু এলাকায় ঈদের আগে আগাম বোরো ধান কাটা শুরু হলেও ঈদের পরে পুরোদমে চলছে ধান কাটার কাজ। সোমবার (৯ মে) রংপুর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের দেখা যায় ধান কাটতে। সকালে দেখা যায়, নগরীর চিকলী বিল এলাকার পশ্চিম নীলকন্ঠ, ধাপচিকলী ভাটা ছাড়াও খটখটিয়া, সোটাপীর, আটিয়াটারীসহ অনেক এলাকার কৃষকরা ধান কাটছেন। পরপর কয়েকদিন শিলাবৃষ্টি হওয়ায় ধান চাষিদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ কাজ করছে। ফলে ৮০% ধান পাকলেই সেই ধান দ্রুত কেটে ফেলছেন তারা। তাছাড়া অপেক্ষাকৃত নিচু জমির ধান ঝুঁকিতে থাকায় চাষিরা দ্রুত কাটার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।

আবহাওয়া ভালো থাকায় অনেকেই ধান কেটে একই দিনে মাড়াই এর কাজও করছেন। রোদ থাকায় অনেকেই ধান শুকিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার ধান সেদ্ধ ও গরুর খড়ের জন্য কাঁচা ধানের খড় শুকাচ্ছেন। ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন অনেকে। তবে ধান কাটা উৎসব শুরু হওয়ায় ধান চাষিদের বাড়িতে বাড়িতে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর তথ্য অনুযায়ী— আগাম বোরো ধান হিসেবে ২৮, ব্রি ধান ৮৮, ৮১, ৫৮, বিনা ১০, হাইব্রিড ময়না, টিয়া, সাকিসহ অন্যান্য হাইব্রিড ধান পাকায় পুরো দমে শুরু হয়েছে কাটামারি। এবারে রংপুর জেলায় মোট ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে আগাম বোরো ধান চাষ হয়েছে ৩৩ হেক্টর জমিতে। মোট ধান চাষের প্রায় ২৫%। এবারে আগাম বোরো ধানের ফলন প্রতি হেক্টরে ৩.৭ টন হয়েছে। এই আগাম বোরো ধান আগামী ১০ দিনের মধ্যে কাটামারি শেষ হবে। এর মধ্যে পাকতে শুরু হয়েছে ব্রি ২৯, ৮৯, ৭৪, ৮৪, ৩৪ সহ অন্যান্য জাতের ধান। এই জাতের ধান আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পুরো দমে কাটা শুরু হবে। 

এদিকে আগাম বোরো ধান কাটা উৎসব শুরু হলেও এখনও ধান ক্রয় শুরু না হওয়ায় একটু বিপাকে পড়ছেন ধান চাষিরা। কেননা ধান কাটতে গিয়ে যে ব্যয় তা অনেকেই ধান বিক্রি করে পরিশোধ করে থাকেন। মাঠ পর্যায়ে অনেকে বেসরকারীভাবে আগাম ধান কিনলেও এবারে এখনও কেউ ধান কেনা শুরু করেননি। ফলে ধান কাটতে গিয়ে একধরণের সমস্যায় পড়েছেন। ঈদ পরবর্তী সময় হওয়ায় এই সমস্যাটা আরও বেশি করে দেখা দিয়েছে।  

চিকলীবিল সংলগ্ন মাঠে ধান চাষ করেছেন পশ্চিম নীলকন্ঠের আব্দুল হালিম। ধানের আঁটি আইলে তুলছেন তিনি। মাথার উপর প্রখর রোদ, রোদের তাপমাত্রাও অনেক বেশি। তবে প্রখর রোদের মধ্যে আব্দুল হালিমের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা যাচ্ছে। কথা বলার সময় গাল ভরা পান মুখে হেসে হেসেই বলছেন। এবারে ফলন ভালো হয়েছে। পোকামাকড়ও কম হয়েছিলো। প্রত্যেকবার বৃষ্টির কারণে পানিতে ধান ডুবে যায়। তাই সবার আগে ধান লাগিয়েছিলেন তিনি। সময় মতো ধানও পেকে গেছে। তাছাড়া ঝড়-বৃষ্টির সময় ধান নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে কেটে নিলেন বলে জানান।

ধান চাষি আজিজার রহমান জানান, ৩ বিঘা জমিতে এবারে ধান চাষ করেছেন, ধান পেকেছে তাই কাটা ও মাড়াই শেষ করেছেন তিনি। ভালো ফলন হয়েছে। কত মণ ধান হয়েছে এখনও পরিমাপ করেননি। তবে শুকিয়ে রেখেছেন ধানের ভালো দাম উঠলে বিক্রি করবেন। 

সিরাজুল ইসলাম ধান জানালেন, ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তবে দাম না পেলে লোকসান হবে। 

অন্যদিকে ধান কাটা শুরু হওয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। দম ফেলার সময় নেই, সকাল থেকে রাত অব্দি ধান কাটার কাজে ব্যস্ত রয়েছে। ভালো আয়ও হচ্ছে। চারিদিকে কাজের ডাক থাকায় খুশি শ্রমিকরা। 

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল ঢাকা মেইলকে জানান, জেলায় এবার বোরো ধানের চাষ হয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে আগাম বোরো ধান চাষ হয়েছে ৩৩ হেক্টর জমিতে। যা মোট ধান চাষের প্রায় ২৫%। এবারে আগাম বোরো ধানের ফলন প্রতি হেক্টরে ৩.৭ টন হয়েছে। আশানুরুপ ধান ভালো হয়েছে। যা অন্যান্য ধান কাটা শুরু হলে হেক্টর প্রতি ফলন আরও বাড়বে। 

তিনি আরও জানান, ধান ক্রয় সংক্রান্ত সভা আজ সোমবার (৯ মে) বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর জেলা পর্যায়ে হবে। সভায় সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী রংপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান ক্রয় শুরু হবে। 

এএ