জেলা প্রতিনিধি
০২ মার্চ ২০২৪, ০৯:৩৫ এএম
উত্তরের জেলা দিনাজপুরকে বলা হয় শস্যভান্ডার। এই জেলায় যে পরিমাণ খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয়, তা জেলার চাহিদা মিটিয়েও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর জন্য সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
কালের বিবর্তনে আধুনিক হয়েছে সবকিছু। দেশের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নের সাথে ব্যবহার বেড়েছে সোলার প্যানেলের। বাড়তি খরচ না থাকায় সোলারের দিকে আগ্রহ বাড়ছে অনেকের। দিনাজপুরে সোলার প্যানেল ব্যবহারে কম খরচে সেচ সুবিধা পাচ্ছেন সেখানকার কৃষকরা।
সোলার প্যানেলের মাধ্যমে জমিতে সেচ দিয়ে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা। সেই সাথে তাদের উৎপাদন খরচ কমে গেছে।
জানা যায়, ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে ৩২০ ওয়াটের ৪৫ টি সোলার প্যানেল দিয়ে প্রায় ২৮ লক্ষ টাকা দিয়ে দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ বিদ্যূতায়ন বোর্ডের আওতায় নির্মাণ করে এ সেচ পাম্পের সত্ত্বাধিকারী আব্দুল মান্নান। এরমধ্যে সরকার প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা ভর্তুকি প্রদান করে। এই সেচ পাম্প দিয়ে প্রায় ২৫ একর আবাদী জমিতে সেচ দেওয়া হয় এবং অবশিষ্ট উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে এপর্যন্ত প্রায় ১৭ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। এটা থেকে নির্ধারিত মূল্যে পাবে ঐ পাম্পের সত্ত্বাধিকারী।
সুবিধাভোগী কৃষক সত্যজিৎ রায় ঢাকা মেইলকে বলেন, আগে ডিজেল দিয়ে পানি দিতাম। তখন একবিঘা জমিতে পানি দিতে ৬ থেকে ৭ ঘন্টা লাগত। আর এখন সৌর বিদ্যুত হওয়ার কারণে ৩ ঘণ্টা লাগে। এতে আমরা বেশি সুবিধা পাচ্ছি।
সুবিধাভোগী কৃষক ইসমাইল হোসেন ঢাকা মেইলকে বলেন, সেলো মেসিন দিয়ে পানি নিতে আগে চার সেচ এ টাকা লাগত ২ হাজার ৪০০ টাকা। এখন সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সেচ দিয়ে চার সেচ এ টাকা লাগে ১ হাজার ৬০০ টাকা।সোলার প্যানেল এর মাধ্যমে পানি নিতে কম সময়ও লাগে।
সুবিধাভোগী কৃষক ফারুক হোসেন ঢাকা মেইলকে বলেন, সোলারের মাধ্যমে পানি দিলে বিদ্যুতের মতোই সল্প সময়ে সেচ সুবিধা পাওয়া যায়, এছাড়াও বাড়তি লোকের প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু আগে যখন সেলো মেশিন দিয়ে পানি দিতাম তখন বাড়তি লোক লাগতো, খরচও বেশি হতো।
সেচ পাম্পের সত্ত্বাধিকারী আব্দুল মান্নান ঢাকা মেইলকে বলেন, সোলার পাম্পের মাধ্যমে ২৫ একর জমিতে সেচ দিতে পারতেছি। এত ৪০ জন সুবিধাভূগি সহজে শাষ আবাদ করতে পারছে।এবং তাদের কোন কষ্ট হচ্ছে না। সেলো মেসিনে এর মতো সময় লাগে না এবং সোলার পাম্পের মাধ্যমে কম সময়ে কম খরচে আমি পানি দিতে পারছি।
প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময় কৃষকবান্ধব এবং চিন্তা করেন কীভাবে কৃষকদের সাহায্য করা যায়।
জ্বালানি খাতে স্বনির্ভরতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘সোলার ইরিগেশনকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে, কৃষকের জন্য সাশ্রয় হবে ও বিরাট বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানির বিষয়ে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে পারব। নিজেদের স্বাবলম্বী করতে আমরা সারা দেশে এটি ছড়িয়ে দিতে চাই। এটা প্রধানমন্ত্রীও চান।’
প্রতিনিধি/একেবি